NEET কাণ্ডে, শিক্ষা সচিব বিনীত যোশীর পদত্যাগের পর কি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ?
২৪ জুলাই muthokotha.in: সম্প্রতি NEET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা সংক্রান্ত অনিয়মের জেরে রাজধানীতে টানা বিক্ষোভের মাঝে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। শিক্ষা সচিবের পদ থেকে সরানো হয়েছে বিনীত যোশীকে। তাঁর জায়গায় নতুন শিক্ষা সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নরেশ গাঙ্গোয়ার। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কেন্দ্রের তরফে এই বদলির বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে উচ্চশিক্ষা দফতরের সচিব পদে দায়িত্ব নেন ১৯২ ব্যাচের IAS অফিসার বিনীত যোশী। তাঁকে এখন সরিয়ে পাঠানো হল পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রকে।
অন্যদিকে স্কুলশিক্ষা দফতরের নতুন সচিব হলেন টি কে অনিল কুমার। তিনি এতদিন গ্রামোন্নয়ন দফতরের সচিব ছিলেন।
নতুন শিক্ষা সচিব নরেশ গাঙ্গোয়ার ১৯৪ ব্যাচের ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্যাডারের অফিসার। এর আগে তিনি মৎস্য মন্ত্রকের অ্যানিম্যাল হাজব্যান্ড্রি বিভাগের সচিব ছিলেন। ২০১৪ সালে তিনি রাজস্থানের স্কুল শিক্ষা দফতরের সচিবের দায়িত্বও সামলেছেন।
কানপুর IIT-র প্রাক্তনী বিনীত যোশী এর আগে মণিপুরের মুখ্যসচিব ছিলেন। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা NTA-এর প্রথম ডিরেক্টর জেনারেলও ছিলেন তিনি। এছাড়াও UPSC-র সচিব এবং শিক্ষা মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব পদ সামলেছেন।
গত কয়েকদিন ধরেই NEET-এর প্রশ্নফাঁস নিয়ে উত্তাল দিল্লি। বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন বিরোধী দলের সাংসদরাও। এই পরিস্থিতিতে কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি বলেন, “আরও কড়া পদক্ষেপ করা হবে।”
বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে বলেন, “প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার জেরেই শিক্ষা সচিবকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রাতেই পেপার লিক কাণ্ডের দ্রুত শুনানির জন্য ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পর আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহার করেছেন।
NEET কাণ্ডের জেরে শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে শুক্রবার ক্যাবিনেট বৈঠকের পর এই বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞমহল। বৈঠকের পর আন্দোলনকারীদের দাবি মতো শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ হয় কিনা সে দিকেই নজর আছে রাজনৈতিক মহলের।