Muthokotha.in, ১৯ আগস্ট ২০২৬: পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠনের পর ১০০ দিন পার। এই উপলক্ষে রাজ্য সরকারের কাজের খতিয়ান দিয়ে ‘ভরসার ১০০ দিন’ নামে একটি বিশেষ বুকলেট প্রকাশ করল নবান্ন।
৯ মে শপথগ্রহণ থেকে শুরু করে এখনও পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রকল্প ও পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য স্থান পেয়েছে এই পুস্তিকায়।
৮টি স্তম্ভে সরকারের রূপরেখা
বুকলেটে পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য ৮টি মূল দিককে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেগুলি হল:
শিল্প, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সুশাসন, স্বাবলম্বন, পরিষেবা, নিরাপত্তা এবং সমৃদ্ধি।
এই প্রতিটি ক্ষেত্রে গত ১০ দিনে সরকার কী কী উদ্যোগ নিয়েছে, কোথায় কত বরাদ্দ হয়েছে – তার হিসেবও দেওয়া হয়েছে। পঞ্চায়েত, নারী ও শিশু কল্যাণ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিল্প ও বাণিজ্য – প্রতিটি দফতরের বাজেটের তথ্য এখানে রাখা হয়েছে।
১০০ দিনে চর্চিত সিদ্ধান্তগুলি
এই ১০০ দিনে সরকারের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনা ও বিতর্ক দুই-ই হয়েছে। বুকলেটে উল্লেখযোগ্য যে পদক্ষেপগুলি উঠে এসেছে:
১) অন্নপূর্ণা যোজনা: আগের সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর বদলে নতুন এই প্রকল্প চালু।
২) আয়ুষ্মান ভারত: স্বাস্থ্য পরিষেবায় কেন্দ্রের এই প্রকল্প রাজ্যে পুরোদমে লাগু করা।
৩) অনুপ্রবেশ নীতি: কথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর কড়া নীতি।
৪) বেআইনি দখল উচ্ছেদ: অবৈধ দখলদারি হটাতে অভিযান এবং বিভিন্ন জায়গায় বুলডোজার ব্যবহার।
৫) গুণ্ডাদমন বিল: রাজ্যে কঠোর আইন আনার প্রস্তাব।
৬) পশু জবাই আইন: ১৯৫০ সালের পশু সম্পদ আইন ফের কার্যকর করে গরু, মোষ সহ গবাদি পশু জবাইয়ের উপর বিধিনিষেধ।
৭) শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ: হাইকোর্টের ২০২০ সালের নির্দেশ মেনে মন্দির-মসজিদ সহ ধর্মীয় স্থান থেকে লাউডস্পিকার ও মাইক খুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত।
৮) পরিকাঠামো: কলকাতার ইএম বাইপাসে আটকে থাকা মেট্রো প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করার উদ্যোগ।
৯) আরজি কর কাণ্ড: এই ঘটনার তদন্তে সরকারের কড়া অবস্থান।
১০০ দিনের কাজের মূল্যায়ন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন,— “নিজের রিপোর্ট কার্ডে নিজে নম্বর দেব না। তবে এই কয়েকদিনে আমরা রাজ্যের নিরাপত্তা, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন, জনকল্যাণ, চাকরি ও বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। বাকি হিসাব আপনারা করবেন।”
তিনি আরও বলেন, — “২০২৭ সালের ৯ মে আমার এক বছর পূর্ণ হবে। সেদিন আমি আপনাদের কাছে পরীক্ষা দিতে আসব। ১০-এর মধ্যে যদি ৯ নম্বর না পাই, তাহলে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে নেব।”
সরকার নিজেদের সাফল্যের কথা তুলে ধরলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ১০০ দিনের সিদ্ধান্তগুলি শুধু প্রশাসনিক নয়, ভবিষ্যতের রাজনৈতিক দিকও ঠিক করে দিচ্ছে। যদিও গ্রামগঞ্জের না হওয়া রাস্তা ঘাটগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। এক একটি রাস্তায় এক হাঁটু কাদা। বৃষ্টির দিনগুলো ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর কাছে অভিশাপ, তবুও নতুন সরকারের কাছে মানুষ আশাবাদী। মানুষের বিশ্বাস এই বর্তমান সরকারের লোকজন চুরি -দুর্নীতি করবে না, প্রকৃত উন্নয়ন এবার দেখতে পাওয়া যাবে।
যদিও ১০০ দিনে কোনও সরকারের চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা যায় না। কিন্তু যাঁরা বিজেপি ও শুভেন্দু অধিকারীর উপর ভরসা করে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের কাছে এই সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পদক্ষেপগুলিই বলে দেবে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতি ও সংস্কৃতি কোন পথে হাঁটবে। ‘ভরসার ১০০ দিন’ বুকলেটের মাধ্যমে সরকার নিজেদের প্রথম ১০০ দিনের কাজ জনতার সামনে তুলে ধরল। এই ক’দিনের সরকারের যেমন প্রশংসা হয়েছে , তেমনই বিতর্কও পিছু ছাড়েনি।
এখন দেখার, এই শুরু কতটা স্থায়ী হয় এবং আগামী দিনে রাজ্যবাসী এই সরকারকে কত নম্বর দেন।