বন্যা কবলিত মানুষের পাশে ‘উই কেয়ার ফাউন্ডেশন’, চার দিনে ১১০০ মানুষের মুখে অন্ন তুলে দিল সংগঠন
নিজস্ব সংবাদদাতা, এগরা, muthokotha.in : টানা ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত পূর্ব মেদিনীপুর। জলমগ্ন পটাশপুর ও ভগবানপুর ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা। ঘর ছেড়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। এই দুর্দিনে অসহায় বন্যা-কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ালো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘উই কেয়ার ফাউন্ডেশন’।
গত চার দিন ধরে নিরবিচ্ছিন্নভাবে ত্রাণ বিতরণ শিবির চালাচ্ছে সংগঠনটি। কোনও সরকারি সাহায্যের অপেক্ষা না করে, নিজেদের উদ্যোগে পৌঁছে যাচ্ছে দুর্গত এলাকায়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ত্রাণ বিতরণকে তিনটি পর্বে ভাগ করা হয়েছিল।
প্রথম পর্বে গত বুধবার পটাশপুর ব্লকের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কনকপুর অঞ্চলে পৌঁছে যায় উই কেয়ার ফাউন্ডেশনের সদস্যরা। সেখানে জলবন্দি প্রায় ৫০০ জন মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয় গরম রান্না করা খাবার। খিচুড়ি, ডিম ও সবজি দিয়ে সাজানো ছিল সেই মেনু।
দ্বিতীয় পর্বে ভগবানপুর ব্লকের জুখিয়া গ্রামে। সেখানে রাস্তা ডুবে যাওয়ায় রান্না করা খাবার নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। তাই ১০০ জন দুর্গত পরিবারের জন্য শুকনো খাবারের প্যাকেট – মুড়ি, চিঁড়ে, গুড়, বিস্কুট, জলের বোতল ও ORS নিয়ে পৌঁছায় টিম উই কেয়ার।
তৃতীয় ও সবচেয়ে বড় পর্ব ছিল অমর্ষি এলাকায়। এখানকার বলভদ্রপুর, বাকিভেড়ি ও হাতিবাঁধ অঞ্চলের প্রায় ৫০০ জন অসহায় মানুষের জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। নৌকায় করে গ্রামের ভিতরে ঢুকে বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দেন স্বেচ্ছাসেবকরা।
এই চার দিনে মোট ১১০০ জন বন্যা-পীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সংগঠনটি।
এ প্রসঙ্গে সংগঠনের সভাপতি সুভাষ নন্দ বলেন, “উই কেয়ার ফাউন্ডেশন শুধু একটা নাম নয়, এটা একটা আবেগ। আমরা সারা বছর মানুষের পাশে থাকার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বন্যার খবর পেয়েই আমরা আর বসে থাকতে পারিনি।”
সম্পাদক বিশ্বজিৎ নাথ বলেন, “আমরা শুধু বস্ত্র বিতরণ বা রক্তদান শিবিরই করি না, যখন যেখানে মানুষ বিপদে পড়ে, সেখানেই পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা করি। অবলা পশুদের রক্ষা থেকে শুরু করে এই বন্যা-ত্রাণ – সবটাই আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা। ওনাদের দুঃখের সঙ্গী হতে পেরে আমাদের যোদ্ধারা আজ আবেগঘন।”
সংগঠনের কর্ণধার উজ্জয়িনী ব্যানার্জি সকল শুভাকাঙ্ক্ষী, দাতা ও স্বেচ্ছাসেবকদের যারা এই কঠিন সময়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি জানান, জল না কমা পর্যন্ত তাঁদের এই ত্রাণ কার্য চলবে। মানুষের বিপদে সহযোগিতা করা তাঁদের সামাজিক দায়বদ্ধতার পড়ে বলে তিনি মনে করেন।