এক পশলা বৃষ্টি অলকেশ মাইতি
(এক)
দিনান্তে
কে যেন বৃষ্টির কথা বলেছিল !
কারা যেন সব দাগ ধুয়ে যাবে ব’লে
সহস্র দাগ কেটেছিল মাটিতে ,
দাগ তো মোছে নি
বৃষ্টি হয়েছে তবু কথা মতো।
কে যেন গনগনে আগুনের কথা বলেছিল !
কে যেন আগুনের তাপ নিতে বলেছিল ব’লে
কারা যেন জ্বলে গেলো তাপ নিয়ে !
তবু কে যেন বলবে স্রোতে ভাসতে
স্রোতটা প্রত্যয়ের ঘাটে থামবে ব’লে
কারা যেন গা ভাসাবে ব’লে
ঘুমাতেই ভুলে গেছে !
দিনান্তে সেই আমি একা আমি সূর্যের শেষ রশ্মির ছোঁয়া নিয়ে হজম করছি শুধু নিজেকে!
_____
(দুই)
বিষণ্ণ
কখনোই ভাবিনি
অধরা সেই স্বপ্নই সত্যি হবে
চাপ না সইতে পেরে
ঘরে থাকতে চাইতাম যবে।
আজ এলো সেই দিন ;
একলা থাকা শুধু ঘরে
পৃথিবীর পাড়ায় পাড়ায়
কান্নার ঘনঘটা জুড়ে ।
এমন স্বপ্ন আর দেখবো না
আলপথ বেয়ে বেয়ে
একলা থাকতে আর চাই না
শুধুই একলা হয়ে !
_______
(তিন)
হৃদয়ে ধুলো উড়ে যায়
সময় বদলে যায় তুমিও যাও বদলে
সূর্য আবির ঢালে পশ্চিমে বিকেলে।
একঝাঁক জোনাকি আসে না সন্ধ্যায়
তোমাকে ডাকি না আর কোনো কবিতায়।
এখন তো শালিকেরা মাতে না ঝগড়ায়
হৃদয় শুকনো ক্ষেত , ধুলো উড়ে যায়।
___________
(চার)
আরো আবোল তাবোল
কোনো এক কাকভোর বলে দেবে
আমি কত নীচ,
আমি কত বিরুদ্ধ অমানুষ
কত নগণ্য তোমাতেও ঘূর্ণিচ্!
কোনো এক সন্ধ্যাই বলে দেবে
কী ছিলাম পঙ্কিল,
আবর্ত সংক্ষেপ নিক্ষেপ
আমি খুব তোমাতেও শঙ্কিল্!
কোনো এক রোদবেলা বলে দেবে
আমি কত ভয়ানক হায়না
আমাকে যে চিনে গেছো
কেমনে তা জানি না।
কোনো এক রাত্রিই বলে দেবে
আমি গল্পেরই কোনো লোক,
শেষ দৃশ্যেতে দেখো
অস্ত সূর্য হোক্ !
কোনো এক কান্নাই বলে দেবে
খাপ আর তলোয়ার,
প্রয়োজন আজও আছে
লড়াইটা দরকার।
কোনো এক হাসি মুখ বলে দেবে
সাধারণে দিন মাস,
আমার এ ভাবনাগুলো
করেছে স্বর্গবাস!
_________
(পাঁচ)
গোধূলি বেলার কবিতা
শেষ সন্ধ্যার শুভেচ্ছা নিও মোর
আর যদি না হয় কোনো ভোর
তবু মনে রেখো
কেউ যেন স্বপ্নের দেশে এসে ক্ষণকাল
দিয়ে গেছে কুয়াশা সকাল।
কোনো কথা রোদ্দুর হয়ে
ফিরবে না সবুজ ছায়ায়
একদিন বেদনাও ফুল হয়ে
পাখির গানের মতো
বুকে বিঁধে যাবে নিরুপায়।
আবিরস্নান গোধূলিবেলায়
ক্লান্ত শরীরে আমি খুঁজি রাত,
তুমি এলে শিরিস পাতায়
গল্পরা জোট বেঁধে বাড়িয়ে হাত
রজনীগন্ধার সুবাস ছড়ায়।
আমি থাকবো না এই মাটি ধ’রে,
এই সত্য শান্ত স্বাভাবিক
তুমি খুশি হবে বসন্ত নেই ব’লে,
এবার ফাগুন বিদায় নিক্
আমারই মতো।
___________
(ছয়)
দুই বেলা
এখন তো সেই বকুল বাগান নেই
ফুল কুড়োবার সময়ও নেই তোমার
আমের গাছও চেনে না অনেকেই
ছোট্ট খোকা বোঝেই না সব জানার।
কাটা ধানের গোড়ালি সরবে মাড়িয়ে
চৈত্র রোদের তপন তাপের বিকেল
ছোট্ট “আমি” উড়াতাম কত ঘুড়ি
আমার খোকা পায় না পরশ “সেকেল”।
খেলার মাঠে কাটতো আপরাহ্ন
পাড়ার সবাই দল বাঁধতাম মিলে
সন্ধ্যে ক’রে ফিরলে নিজের ঘরে
মা যে বকেই কানটি দিত ম’লে।
খেলতে কভু করতো না মা, মানা
আজ আমি যে বকছি মিছে কেন
ছেলে মেয়ে বই যেন না ছাড়ে
খেলারও মাঠ নেই পাড়াতে হেন।
গ্রামে গ্রামে ঘুম ভাঙতো সবার
যখন মোরগ ডাকতো আঁধার ভোরে
ব্যায়াম করতাম ঘুমবিছানা ফেলে
নিম কাঠিতে দাঁত মাজতাম ঘরে।
ঠাম্মা দিত জবা পাতার সরবত
কখনো আবার কালমেঘের রস
তারপরেতে একটু কিছু খেয়ে
মা বলতো এবার পড়তে বোস্ !
এখন কেবল সকাল বিকেল পড়া
খেলাধুলা সবই মুঠোর ভিতর
শূন্য উঠোন শূন্য খেলার মাঠ
সব বাবা মা-ই অচিন মনের খবর।
গাছের ছায়ায় ওড়ে না দোদুল ধুলো
পাতায় পাতায় বে-রঙা আল্পনা
পা ছড়িয়ে মুক্তো আলাপনে
খোকা খুকু আর কখনোই যায় না।
_____________
(সাত)
আমি প্রমীলা বর্মন বলছি
আমি বাংলার “সোনাঝরা মাটি” থেকে
প্রমীলা বর্মন বলছি- – – –
তোমরা কী শুনতে পাবে
আমার কাতরতার ধ্বনি !
এই মাটিতেই যখন আমাকে
লালসার নালায় চুবিয়ে ধ’রে
গলার নলি কেটে জ্বালিয়ে দেওয়া হলো
তখন ঝড় ওঠেনি কেন ? – – – –
এই জিজ্ঞাসা আমি করতে পারি না কী !
আমি কী জানতে পারি না – – –
কেন তোমাদের মোমবাতি জ্বলেনি
অন্ধকারের রাজপথে ?
কেন মুখরিত হয়নি তোমাদের মুখ
সমালোচনার দিগন্তে ?
প্রতিদিন বারুদ ঝরছে
ফুলের পাপড়ি পুড়িয়ে
তোমার উন্নয়নের উনুন থেকে,
প্রতিদিন একটা আর্তনাদের শূল
তোমরা দেখছো না কি এই “মেদুর মাটিতে” ?
আমি কি বিচার চাইতে পারি না আমার মতো ?
আমি কি বলতে পারি না – – –
যারা আমাকে ধর্ষণ ক’রে , খুন ক’রে
পুড়িয়ে ছাই ক’রেছে এই শরীর ,
তাদের বাঘের খাঁচায় ফেলা হোক্ ,
তারাও খাদ্য হোক্ খাদকের !
_____________
(আট)
কবিতার ছাদনা তলায়
কবিতার ছাদনা তলায়
আমি লাজুক বর,
টোপর মাথায় কবিতা
আসে বায়ে ,
হারিয়ে গেছি আমি
বেদুইন উল্লাসে
জল কাদার ঐ গাঁয়ে।
বাদল বাউল
মনের কাজল
অলক ঢেউ তুলে,
ফিরেই যাবে আপন ঘরে
ছাদনা তলা ভুলে?
আজ কবিতা
তোমার সাথে হবেই
আমার বিয়ে ,
মাদল বাজুক
আমার লাজুক
টোপরখানা নিয়ে !
খেজুর গাঁয়ে টাপুর টুপুর
বৃষ্টি নূপুর পায় ,
চালা ঘরে সূর্য উঁকি
চাঁদও গান গায়।
__________
(নয়)
কিনারাতে দাঁড়িয়ে
পঞ্চরসিকতার কালক্ষয় হলে
আমি খাদের কিনারাতে দাঁড়িয়ে
তোমার প্রতীক্ষা করতে করতে
খাক্ হয়ে যাবো ।
কেউ প্রশ্ন করলে নির্বিকার থেকে
উত্তর লিখে যাবো বাতাসের বুকে,
তারপর গোধূলি
তারপর সন্ধ্যা
তারপর তুমি এলে
তোমাকে জড়িয়ে ধরে
ভালোবাসতে বাসতে খাক্ হয়ে যাবো ।
তাই আজ কিনারাতে জল থৈথৈ
সুরের নূপুর
আর যত হৃদয়ের উচ্ছ্বাস
মাখা মাখি করে দাঁড়িয়ে রয়েছি একা ।
_____________
(দশ)
আমিও কী অন্ধকার খুঁজে নেবো শিরায় শিরায়
নিঃস্ব হয়ে আমিও তো ঝরে যাবো
তোমার মতো
আমিও তো জ্যোতিহীন জাং নিয়ে
গল্প হয়ে থেকে যাবো
দেওয়ালের গায়,
রক্তের রস টেনে জীবনটা
হলুদ ক’রে নিয়ে আমিও তো
নির্ঘাত নিভে যাবো এইভাবে।
কাল সন্ধ্যের আড্ডাতে
যদি খুঁজে না পাও ,
ভেবে নিও পড়ে আছি
ছুঁড়ে আছি প্রাক্ ইতিহাস মেনে,
তোমার গায়ের ঘ্রাণ
ব্যাকুল প্রশ্বাসে
চিত্ত জয়ের দিন শেষে
অনন্ত কোনোও ভাব নিয়ে
পাড়ার তাসের ঝোঁকটাকে ভেঙে দিয়ে
হেমন্ত বৃথা হয়ে যায়!
কোনো এক যুদ্ধের দিনে
প্রপিতামহের বারান্দা-উঠোনে
তুমি ছিলে ঝোড়ো হাওয়া ঠেলে,
“বর্ণ পরিচয়”-এর প্রথম পরিচয়ে
তোমারই প্রয়াস আজ স্মৃতি জুড়ে,
ঠাকুমার রান্নাশালের প্রতিটি ব্যাঞ্জন
তুমিই চিনিয়েছো হাত ধ’রে।
আজ তুমি আমি এক হয়ে যেতে পারি
নয়তো বা তোমার মতো
আমিও কী অন্ধকার খুঁজে নেবো শিরায় শিরায় ?
_________________
(এগারো)
.
বিদেহী
দূরে সরে যাই ধীরে ধীরে
অন্তহীন সেই দূরে
কেউ নেই কোথাও
শুধু অন্ধকার আর অন্ধকার
পথে ফুটে থাকা ফুলের মতো
সচেতন অবহেলা নিয়ে
তোমার পথচলা ফুরফুরে বিকেলে
আমি শুধু অচেনা পাখির মতো
গেয়ে যাই গান
অনেকের মতো তুমিও খোঁজো না
কোথা থেকে ভেসে আসে সেই সুর !
একটি মুহূর্ত আসে
তারপর সবকিছু শেষ হ’লে
পড়ে থাকে ধু ধু হাহাকার
পড়ে থাকে নিভৃত কথা
আম জাম কাঁঠাল পেয়ারার ছায়া
বাঁশ ঝাড়ে কাঠবিড়ালির লুকোচুরি
সবেতা গাছে
বানরের দাপাদাপি।
সেই সব বাউলের গান
বাবার পুরানো হারমোনিয়াম
নুয়ে পড়া ঘরের উঠোন
ভাঙা চৌকাঠে
বেয়াদপ পোকার ডাকাডাকি
মাটির দেওয়ালের ফাটে ফাটে
ইঁদুরের সংসার
দাদুর বলে যাওয়া
ডাকাতের গল্প
ঠাকুমার গালে হাত দিয়ে
বসে থাকার ছবি——–
মায়ের স্নেহের পাহাড়
আর পড়ে থাকে নিঃশ্চুপ
আমার স্মৃতি!!
_________
(বারো)
মূল্য
যখন আমি থাকবো না গো
থাকবে কেবল তুমি
বুঝবে তখন এ সংসারে
কেমন ছিলাম আমি !
কেমন ছিল আমার আচার
কেমন ছিল মন
যখন আমি থাকবো না কো
বুঝবে তুমি তখন !
এই পৃথিবী এই নীলাকাশ
যেমন ছিল রবে
চলেই যাবো একলা আমি
থাকবে তুমি ভবে!
মানুষ হতে পারি নি কো
পারি নি ভালোবাসতে
বিশ্ব ভুবন নয়তো আপন
চাইনা বেশী থাকতে ।
কিন্তু যখন আসবে সময়
বিদায় নেওয়ার দিন
শোধ করবো তোমার কাছে
আমার যত ঋণ !
চোখের জলে বিদায় আমি
চাই না ওগো নিতে
ভালো থেকো প্রেম সোহাগে
ওগো আমার মিতে!
___________
(তেরো)
সম্পর্ক ও জীবন
অনেক প্রতীক্ষার পর চোখ তুলে চাইলাম
তুমি ডাকলে না ব’লে আমি ফিরে এলাম,
এক কাপ চা কিংবা দু’পলক দেখবো ব’লে
গিয়েছিলাম ভেবো না—- তোমার মহলে !
ঠিক তুমি জানতাম, আমাকে নীচে ঠেলে দিবে
তাই খাদের উপরে , ছাদ দিয়ে রেখেছি কবে—-
তোমার জন্য মরে যাবো এত বোকা আমি নই
আমারই জন্য নির্দ্বিধায় বাঁচতে হবে আমাকেই।
তবে হ্যাঁ,তোমার লাগানো গাছগুলো হয়েছে বেশ,
ফুলে ফুলে অস্থির করেছে মন—পেয়েছি আবেশ!
তোমার ছবিগুলো রাখতেই পারি বৈঠকে
যেখানে সবার ছবি আছে গায়ে গা রেখে,
পার্লারে সেজে অনেক সখের ছবি বাঁধিয়েছো
ছবি, সে তো ছবিই—তুমি নও, বহুবার শুনিয়েছো,
তাই হিসেবের জানালা কিংবা খুলে প্রবেশ দ্বার
রাখবোই না কোনো ছবি, ছুঁড়ে দেবো দেদার।
শতবার বলেছো ফিরে এসে ভুল নাকি করেছিলে তুমি,
অথচ,কখনোই আসো নি, অস্পৃশ্য থেকে গেছি আমি।
বেদনায় ডুব দিয়ে,ব্যথা নিয়ে,জল নিয়ে চোখে,
যে পাখি গান গায়, তারই গান ভালোবাসে লোকে।
এরপরও যদি কভু দেখা হয় চলবার পথে—
যদি বলো — কথা বলবার সময় তো নেই হাতে,
তবুও ভেবো না, আমি কী ভীষণ কষ্ট পাবো,
সচেতনে, কাঁটা ফেলে গোলাপের পাপড়িই নেবো!
__________________
(চোদ্দ)
সন্ধ্যারাগ
হয়তো কখনো কোনও আষাঢ়ের ঝঞ্ঝায়
তুমি আসবে আমার ঘরে এমনই সন্ধ্যায়
হয়তো সেদিন আমি আকাশের তারা হয়ে
শালুক ধুতরা দেশে একলাই যাবো রয়ে।
কিংবা শীতের আবেশ মেখে শীতল সাঁঝে
আমাকে খুঁজতে এসে সহস্র স্মৃতি মাঝে
না পেয়ে কোথাও দেখা কেবলই গল্প শুনে
আকাশের পানে চেয়ে তারাদের যেও গুনে।
না তুমি চিনলেও চিনে ঠিকই নেবো আমি
আলুথালু আনমনা রাণী বেশে রবে তুমি
আমি নেই তবু আছি সব বসন্ত কোকিলে
মেঘ ঝড় বৃষ্টিতে অশান্ত সন্ধ্যার কোলাহলে।
______________
(পনেরো)
হারিয়ে যেতে যেতে
আগুনের মাঝে জীবন আমার একাকীত্বের ঘোরে
ঋজুতায় হারিয়ে যাবার সন্তরণ চলছে প্রতিবারে
একদিকে মৃত্যুর হাতছানি, অন্যদিকে জীবন তিক্ত
ধমনী ছিঁড়ে বেরিয়ে আসছে অবিচ্ছন্ন শীতল রক্ত
আজ আর কবিতায় প্রেম খুঁজবো না অকারণ
হাসি খুশি প্রিয় গানের কণ্ঠ জুড়ে আসতে বারণ
আমি নেই মন জুড়ে , ঝরাপাতার মতো সত্য
কোকিল ডাকবে কিনা খোঁজ আর রাখে না বসন্ত
_______________
(ষোলো)
একলা নদী
একলা নদী বইতে থাকে
বলতে থাকে কথা
একলা নদী তোমার মতোই
শুনায় রক্তকথা।
কোন্ মুলুকে জন্ম নদীর
কোন্ মুলুকে যায়
সাগর নাকি ডাক দিয়েছে
তার বুকেতেই ধায়।
অনেক চিঠি লিখেও সে
পারেনি দিতে তারে
তোমার মতোই মনের কথা
মধ্য পথেই মরে।
একলা নদী আজও কাঁদে
ডুকরে কাঁদে একা,
ছলাৎ ছলাৎ ঢেউয়ের খাঁজে
স্বপ্নকথা লেখা।
________
(সতেরো)
নতুন বসন্ত
নতুন বসন্ত এসে গেলো শীত না যেতেই
দিলাম আমার বসন্ত রাজশ্রী তোমাকেই
এখন অনেক দূরে সরে আছো কারণ বিনা
বহুদূরে — যেখানে আমায় যেতে করেছো মানা
আকাশে মেঘ ওঠে মনেও ঘন ঘন সাজে মেঘ
হয়তো বিরাট খুশি বেদনা যাপনের ঈশ্বর এক
কামরাঙা বুকে বাজে ছুটির শেষ ঝনঝনে ঘণ্টা
” দু’ আঙুলের ফাঁক ” দিয়ে এবার গলবে জীবনটা
তিক্ত জীবনে খুঁজি স্মৃতির বাগানে ফোটা ফুল
আজও মনে করো বুঝি ফিরে এসে করেছিলে ভুল?
____________
(আঠারো)
নিশি রাত
সারারাত তারাদের কোলাহল
টিপটাপ শিশিরের টোকা,
উত্তুরে হাওয়া মেখে নির্জনে
চার দেওয়ালের মাঝে একা।
তম ঘেরা রাত্রির ফিসফাস শুনে
চুপি চুপি উঠে বসি বিছানায়,
হাঁক দেয় ঝিঁঝিদের সর্দার
আমি কেন আছি ঘরে অসহায়!
পেঁচার সে না পাওয়ার কান্না
কুকুরের ঘেউ ঘেউ অবিরাম,
অচেনা কয়টি পাখি গুন-গুন
শীত ফিত কেটে খালি ঝরে ঘাম।
কত নিশি ভোর হয় এমনি
শেয়ালের চেনা গান প্রতিদিন,
আঁধারের নিঃশ্বাস জানালায়
ঝরে পড়া পাতাদের শুনি বীন।
__________
(ঊনিশ)
ভালো নেই
শরীরটা আর টানছে না আমাকে
কোনো কিছুই ভালো লাগেনা আর
এই ফুল পাখি নদী সাগর
গান কবিতা গল্প ছবি —–ভালো লাগে না ।
জীবনের সব লেনদেন চুকিয়ে দিয়ে
অস্ত যাবো কীনা —- মন চুরি ক’রে ,
—–ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়বো
—–তাই ভাবছি ।
ভালো নেই ———
মন খারাপের ঠান্ডা বাতাসে
হৃৎপিণ্ড কেঁপে কেঁপে ওঠে,
ভালো নেই,
ভালো লাগে না
ভালো লাগে না
ভালো লাগে না
আলো লাগে না আর তন্ত্রে তন্ত্রে ।
অলকেশ মাইতি
“এক পশলা বৃষ্টি”
প্রকাশক-: —– http//muthokotha.in