সোশ্যাল মিডিয়ায় রিল বানানোর নেশা এবার বিপাকে ফেলল এক মহিলাকে। উত্তরপ্রদেশের ঔরাইয়া জেলার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে খোদ এসপি-র চেয়ারে বসে বলিউড গানে রিল বানিয়ে ভাইরাল হন অবসরপ্রাপ্ত এক দারোগার পুত্রবধূ। সরকারি দফতরের মর্যাদা লঙ্ঘনের অভিযোগে ভিডিও ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। শেষমেশ প্রকাশ্যে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন ওই মহিলা। ডিলিট করতে হয় ১৬ হাজার ফলোয়ারের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টও।
গত মঙ্গলবার ঔরাইয়া এসপি কার্যালয়ের প্রধান অডিটোরিয়ামে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশকর্মীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ছিল। জেলার শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকরা ছাড়াও অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ও তাঁদের পরিবার উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে সবাই বেরিয়ে গেলে হল ফাঁকা হয়ে যায়।
সেই সুযোগে এক অবসরপ্রাপ্ত দারোগার পুত্রবধূ মঞ্চে উঠে সরাসরি পুলিশ সুপারের চেয়ারে বসে পড়েন। এরপর একটি জনপ্রিয় বলিউড গানের সঙ্গে ‘সিংঘম’ স্টাইলে চেয়ার ঘুরিয়ে রিল বানান। হাসিমুখে ক্যামেরার সামনে পোজও দেন তিনি। পরে ভিডিওটি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেন।
ভিডিওটি মুহূর্তে ভাইরাল হয়। সরকারি দফতর, তাও আবার জেলার সর্বোচ্চ পুলিশ আধিকারিকের চেয়ারে বসে রিল — নেটিজেনদের একাংশ একে ‘প্রশাসনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ’ ও ‘পুলিশের মর্যাদা লঙ্ঘন’ বলে তোপ দাগেন। অনেকেই ঔরাইয়া পুলিশকে ট্যাগ করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বিষয়টি নজরে আসতেই ঔরাইয়ার পুলিশ সুপার অভিষেক ভারতী তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তে উঠে আসে, অনুষ্ঠান শেষে আধিকারিকদের অনুপস্থিতিতে গোপনে ভিডিওটি তোলা হয়েছিল।
বিতর্ক বাড়তেই ওই মহিলা ও তাঁর শ্বশুর — অবসরপ্রাপ্ত দারোগা — পুলিশের কাছে ভুল স্বীকার করেন। লিখিত ও ভিডিও বার্তায় তাঁরা জানান, পুলিশ বিভাগের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। সোশ্যাল মিডিয়ার উচ্ছ্বাসে অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটনাটি ঘটেছে।
প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে মহিলা শুধু ভিডিওটি মুছেই ক্ষান্ত হননি, ১৬ হাজার ফলোয়ার থাকা তাঁর পুরো ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টও ডিলিট করে দেন।
পুলিশ সুপার অভিষেক ভারতী জানিয়েছেন, “ঘটনাটি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র নয়, অজ্ঞতাবশত ঘটেছে। মহিলা ও তাঁর পরিবার ভুল স্বীকার করেছেন। তাই ভবিষ্যতের জন্য কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।” একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, “সরকারি দফতর বা সরকারি চত্বরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।”
এই ঘটনা ফের চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল, রিল-শর্টসের যুগে সোশ্যাল মিডিয়ার ‘ভাইরাল’ হওয়ার নেশা কীভাবে সরকারি শৃঙ্খলা ও প্রোটোকলকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। প্রশাসনের মতে, আবেগের বশে বা ফলোয়ার বাড়ানোর তাগিদে সরকারি সম্পত্তি ও পদমর্যাদার অপব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধের শামিল হতে পারে।
ঔরাইয়া পুলিশের এই কড়া অবস্থান ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।