‘দ্য রিং’-এর সামারা আর নেই: ৩৫-এই থামল ডেভি চেজের জীবন — এইডস ও মাদকাসক্তিই কাল, গৃহহীন অবস্থায় হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস
মাত্র ৩৫ বছর বয়সে থেমে গেল হলিউডের এক উজ্জ্বল তারকার জীবন। ‘দ্য রিং’ খ্যাত অভিনেত্রী ডেভি চেজের রহস্যজনক মৃত্যুর ১৫ দিন পর অবশেষে সামনে এল ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি মেডিক্যাল এক্সামিনারের প্রতিবেদন বলছে, এইডস এবং দীর্ঘস্থায়ী বহুবিধ মাদকের ব্যবহারই তাঁর মৃত্যুর প্রধান কারণ। মৃত্যুকে ‘স্বাভাবিক’ বলে উল্লেখ করা হলেও, পর্দার আড়ালের জীবনযুদ্ধের গল্প নাড়িয়ে দিয়েছে সবাইকে।
কী বলছে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট?—-
গত ১৬ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি হাসপাতালে মারা যান ডেভি চেজ। মৃত্যুর দুই সপ্তাহ পর প্রকাশিত সরকারি রিপোর্টে জানানো হয়েছে:
১. মৃত্যুর প্রধান কারণ এইডস।
২. দীর্ঘস্থায়ী বহুবিধ মাদকের ব্যবহার মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করেছে।
৩. হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হওয়ায় একে ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে তাঁর ম্যানেজার জন রায়ান জুনিয়র জানিয়েছিলেন, মেনিনজাইটিস থেকে সেপসিস হয়ে মারা গেছেন ডেভি। কিন্তু সরকারি রিপোর্টে সেই তথ্য বদলে গেল।
আলো থেকে অন্ধকারে: ডেভির জীবনযুদ্ধ:—
ডেভির বাবা জন ডেভিড শোয়ালিয়ার ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, জীবনের শেষ দিনগুলোতে চরম আর্থিক সংকটে ভুগছিলেন অভিনেত্রী। সম্পূর্ণ গৃহহীন হয়ে পড়েছিলেন তিনি। মাত্র ১৩ বছর বয়স থেকেই মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েন ডেভি। সেই আসক্তিই ধীরে ধীরে তাঁর কেরিয়ার ও জীবনকে গ্রাস করে।
যেভাবে উত্থান:—
ডেভি চেজের জন্ম ১৯৯০ সালে। মাত্র ৪ বছর বয়সে অভিনয় শুরু। ৭ বছর বয়সে ‘সাবরিনা দ্য টিনেজ উইচ’ দিয়ে হলিউডে পা রাখেন। কিন্তু বিশ্বজোড়া খ্যাতি আসে ২০০২ সালে। ‘দ্য রিং’ ছবিতে টিভির পর্দা ফুঁড়ে বেরিয়ে আসা ভয়ঙ্কর ভূত ‘সামারা মরগ্যান’-এর চরিত্রে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকের মনে গেঁথে আছে। এই চরিত্রের জন্য ২০০৩ সালে ‘সেরা খলনায়ক’ বিভাগে এমটিভি মুভি অ্যাওয়ার্ড জেতেন তিনি।
২০০৩ সালেই ডিজনির ‘লিলো অ্যান্ড স্টিচ’-এ প্রধান চরিত্র লিলো-র গলায় কণ্ঠ দেন ডেভি। এই কাজের জন্য জেতেন মর্যাদাপূর্ণ অ্যানি অ্যাওয়ার্ড। অস্কারজয়ী জাপানি অ্যানিমেশন ‘স্পিরিটেড অ্যাওয়ে’-র ইংরেজি সংস্করণেও কণ্ঠ দিয়েছিলেন তিনি।
পতন ও শেষ পরিণতি:—
২০১৫-১৬ সালের পর থেকেই অভিনয় থেকে সরে আসেন ডেভি। এরপর তাঁর জীবন জড়িয়ে পড়ে বিতর্ক, মাদক মামলা ও আইনি জটিলতায়। এক সময়ের হলিউডের ‘ওয়ান্ডার কিড’ ধীরে ধীরে হারিয়ে যান অন্ধকারে। শেষ পর্যন্ত গৃহহীন অবস্থায় হাসপাতালের বিছানায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
হলিউডে শোকের ছায়া:—
ডেভির মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন বহু সহ-অভিনেতা ও পরিচালক। ‘দ্য রিং’-এর পরিচালক গোর ভারবিনস্কি লেখেন, “ডেভির চোখে যে নিষ্পাপ ভয় ছিল, সেটাই সামারাকে জীবন্ত করেছিল। ওর প্রতিভা সময়ের আগেই হারিয়ে গেল।”
মাত্র ৩৫ বছরের জীবনে খ্যাতির শীর্ষ ছুঁয়েও ব্যক্তিগত জীবনের অন্ধকার কাটিয়ে উঠতে পারেননি ডেভি চেজ। তাঁর অকালপ্রয়াণ ফের একবার মনে করিয়ে দিল, গ্ল্যামারের আড়ালেও লুকিয়ে থাকে অবসাদ, আসক্তি আর একরাশ একাকিত্ব।