Muthokotha.in, ১৬ অগস্ট ২০২৬: জীবনের অর্ধেক পথও পেরোনোর আগেই থেমে গেল সব। হিন্দি ও দক্ষিণী সিনেমার উঠতি তারকা অনন্যা রাজ ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। ঘুমের মধ্যেই শান্তিতে চলে গিয়েছেন তিনি। মৃত্যুর এক মাস পর, ১৬ আগস্ট পরিবারের তরফে এই খবর সামনে আনা হয়।
অনন্যার ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে পরিবার লিখেছে, — “ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানাচ্ছি, ১৫ জুলাই গভীর রাতে অনন্যা আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছিল ও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঘুমের মধ্যেই কোনো কষ্ট ছাড়া ও চলে গেছে।”
সেই সঙ্গে পরিবার অনুরোধ করেছে, এই শোকের সময় তাঁদের একান্তে থাকতে দেওয়া হোক। সংবাদমাধ্যম ও ভক্তদের কাছে অনুরোধ রক্ষার আবেদন জানানো হয়েছে।
মুম্বইতেই বড় হয়ে ওঠা অনন্যার সিনেমায় হাতেখড়ি ২০১৬ সালে। প্রথম ছবি ‘7 Hours to Go’। অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের উপস্থিতি দিয়ে নজর কাড়েন তিনি।
এরপর একের পর এক কাজ করেন সুনাম অর্জন করেন অন্যন্যা। ‘The Final Exit’ (২০১৭) নামক থ্রিলারধর্মী ছবিতে তাঁর সাবলীল অভিনয় চলচ্চিত্র সমালোচকদের প্রশংসা পায়। ‘Ghost’ (২০১৯) চলচ্চিত্রটি ছিল বিক্রম ভাটের হরর ছবি। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যায় অনন্যাকে। ভয়ের আবহে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে দাগ কেটে যায় ।
‘Thaggede Le’ ছবিটি তেনালি শহরের গল্প নিয়ে তৈরি একটি তেলেগু ফিল্ম। এই ছবিতে তাঁর অভিনয় ছিল নজর কাড়া। নবীন চন্দ্র ও দিব্যা পিল্লাইয়ের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করে দক্ষিণ ভারতেও তিনি জনপ্রিয়তা পান। ‘Madrasi Gang’ ছবির অ্যাকশন ড্রামায় ‘সারিতা’ চরিত্রে অনন্যার কাজ বিশেষভাবে মনে রাখার মতো। দর্শক ও সমালোচক দুই মহলেই তাঁর অভিনয়ের প্রশংসা হয়।
বলিউড এবং দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জন্য আলাদা পরিচয় তৈরি করেছিলেন তিনি। অল্প সময়ে যে পরিমাণ কাজ তিনি করেছেন, তা অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা।
অনন্যা শুধু পর্দাতেই নন, সোশ্যাল মিডিয়াতেও বেশ অ্যাকটিভ ছিলেন। ভক্তদের সঙ্গে নিয়মিত ছবি, রিল, জীবনের টুকরো টুকরো মুহূর্ত শেয়ার করতেন।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে হায়দরাবাদে একটি ডিনার পার্টিতে ভারতীয় ক্রিকেটার শুভমান গিলের সঙ্গে তোলা ছবি পোস্ট করে শেষবারের মতো ভাইরাল হন তিনি। তারপর থেকেই অন্তরালে থেকে যান অনন্যা।সেই পোস্টের কমেন্ট বক্সেই এখন ভক্তরা শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
পরিবার জানিয়েছে, প্রায় এক বছর ধরে অনন্যা শারীরিক ও মানসিক নানা জটিলতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। তবুও কাজের প্রতি ভালোবাসা, জীবনের প্রতি টান — কোনও কিছুই কমেনি।
কেন মৃত্যুর এক মাস পর খবর প্রকাশ করা হল? এই প্রশ্নের উত্তরে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে — এই সময়টায় তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে শোক পালন করতে চেয়েছিলেন। প্রিয়জনকে হারানোর কষ্টটা নীরবে সামলাতে চেয়েছিলেন।
২৮ বছর বয়সে একজন শিল্পীর এভাবে চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না কেউই। খবর প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়া ভরে গেছে শোকবার্তায়।
সহ-অভিনেতারা লিখেছেন,–“এত প্রাণবন্ত, এত প্রতিভাবান ছিল ও। বিশ্বাসই হচ্ছে না।”
অনন্যা রাজ খুব বেশি ছবি করেননি। কিন্তু যতগুলো করেছেন, প্রতিটিতেই নিজের ছাপ রেখেছেন। তাঁর হাসি, অভিনয়ের সাবলীলতা আর পর্দার উপস্থিতি দর্শকরা সহজে ভুলবেন না। তিনি প্রমাণ করেছিলেন, প্রতিভা থাকলে ভাষা বা ইন্ডাস্ট্রি বাধা হয় না। হিন্দি থেকে তেলেগু – সব জায়গাতেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পেরেছিলেন।