অলকেশ মাইতি ,২৪ জুলাই,muthokotha.in : বেশ কয়েকদিন ধরে দেশ ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রেম ও সম্পর্কের টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে হত্যা, নতুবা আত্মহত্যার খবর সবাইকে অবাক করেছে, এ যেন অভিসারে অভিশাপ লেগেছে। বৃহস্পতিবার রাতে মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী রইল রেলশহর খড়্গপুরের গোলবাজার ৭ নম্বর ওয়ার্ড । একটি লজের ঘর থেকে শিক্ষিকা শুভাঙ্গী মাহেশ্বরীর (৩২) মৃতদেহ উদ্ধার হল। অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে তাঁর প্রেমিককেও। বর্তমানে খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রেমিক।
লজ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে প্রথমে ওই যুবক এসে লজে একটি ঘর ভাড়া করেন। পরে সেখানে পৌঁছন শিক্ষিকা শুভাঙ্গী। রাতের দিকে লজ কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হলে পুলিশে খবর দেয়। খড়্গপুর টাউন থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘর থেকে শুভাঙ্গীর নিথর দেহ এবং অসুস্থ অবস্থায় তাঁর প্রেমিককে উদ্ধার করে। প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে, দু’জনেই একসঙ্গে বিষাক্ত কিছু পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন, প্রেমিকার মৃত্যু হলেও প্রেমিক আপাতত বেঁচে যান।
শিক্ষিকা শুভাঙ্গী মাহেশ্বরী উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। কর্মসূত্রে তিনি খড়্গপুর আইআইটি চত্বরের কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন। তাঁর স্বামী পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই যুবকের সঙ্গে শুভাঙ্গীর বিয়ের আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল।তারপরেও তিনি প্রেমিককে বিয়ে না করে ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়ে করে সংসার পাতেন। কেন তিনি প্রেমিককে বাদ দিয়ে ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়ে করলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এই মৃত্যুর পেছনে সম্পর্কের টানাপোড়েন, পারিবারিক অশান্তি নাকি অন্য কোনও কারণ লুকিয়ে আছে তা এখনও এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ সব দিক খতিয়ে দেখছে। মৃতার স্বামীর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে।
আপাতত প্রেমিক যুবকের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই যুবক সুস্থ হয়ে কথা বলতে পারলেই এই রহস্যের জট খুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। গোটা ঘটনায় খড়্গপুরের শিক্ষক – শিক্ষার্থী মহল এবং স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।