নিজস্ব প্রতিনিধি,১১ জুলাই,জলপাইগুড়ি: অন্নপূর্ণা প্রকল্পের ৩ হাজার টাকা তুলতে গিয়ে ব্যাঙ্কের রসিদে চোখ পড়তেই আঁতকে উঠলেন এক গৃহবধূ। রসিদে দেখানো হল তার অ্যাকাউন্টে রয়েছে ৭৪০ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা! মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে কড়াইবাড়ি গ্রামে। শেষে পুলিশ-ব্যাঙ্কের তদন্তে বেরোল আসল কারণ।
ঘটনাটি জলপাইগুড়ির জটেশ্বর থানার কড়াইবাড়ি এলাকার। ধুলাগাঁওয়ের এক কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা তুলতে যান স্থানীয় বাসিন্দা শম্পা বর্মণ। টাকা তোলার পর হাতে পাওয়া প্রিন্ট-আউট দেখে তিনি স্তম্ভিত।
রসিদে তার ব্যালেন্স দেখাচ্ছে ৭৪০ কোটি টাকার বেশি। দিনমজুর পরিবারের শম্পা দেবী ভয় পেয়ে যান। ভাবেন, তাকে কোনও ফাঁদে ফেলা হচ্ছে কিনা। সঙ্গে বিষয়টি তিনি স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য বিজয় ওরাও-কে জানান।
খবর চাউর হতেই এলাকায় শোরগোল। জটেশ্বর ফাঁড়ির পুলিশ শম্পা দেবীকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কে যায়। ব্যাঙ্ক আধিকারিকরা অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে জানান, তার আসল জমা টাকার পরিমাণ মাত্র ২১৬ টাকা।
তাহলে রসিদে এল কীভাবে এত টাকা?
আসলে ওটা ব্যালেন্স ছিল না, ওটা ছিল ফোন নম্বর।
তদন্তে পুলিশ দেখে, রসিদে যে ১০ অঙ্কের সংখ্যাটি ব্যালেন্স হিসাবে ছাপা হয়েছিল, সেটি আসলে একটি মোবাইল নম্বর। সেই নম্বরে যোগাযোগ করে জানা যায়, এটি কেরালার একটি টেলিফোন নম্বর।
ব্যাঙ্ক ও পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, CSP-র সার্ভারের টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে ফোন নম্বরটি ভুলবশত ব্যালেন্সের জায়গায় প্রিন্ট হয়ে গিয়েছে।
আসল তথ্য জানার পর হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন শম্পা দেবী ও তার পরিবার।
জেলা পুলিশ সুপার অমিত কুমার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। এটি নিছকই যান্ত্রিক ভুল।
সরকারি প্রকল্পের সামান্য টাকা তুলতে গিয়ে কোটি কোটি টাকার রসিদ হাতে পেয়ে কার না ভয় লাগবে। তবে প্রযুক্তির এই ছোট ভুলই বড় বিভ্রান্তি তৈরি করেছিল। CSP গুলিতে যাতে এমন ভুল আর না হয়, সেই বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ।