৮ আগস্ট, muthokotha.in : বেশি টাকা মানেই যে ভালো খাবার, আর পাঁচতারা হোটেল মানেই খাবারের চমক —- সেই ধারণা সবসময় সঠিক নাও হতে পারে। পাঁচতারা হোটেল নিয়ে আমাদের এই ধারণায় জল ঢেলে দিল কর্নাটক সরকারের খাদ্য দফতরের আচমকা হানা। শনিবার শহরের তাবড় ৫-তারা ও ৩-তারা হোটেলগুলিতে তল্লাশি চালিয়ে যা পাওয়া গেল তা দেখে আতঙ্কে পড়েেছীলেনসাধারণ মানুষ। রান্নাঘরে পড়ে রয়েছে পচা মাংস, নষ্ট দুধ, ছত্রাক ধরা সবজি। এই নোংরা পরিবেশেই কি এতদিন খাবার তৈরি হচ্ছিল? মানুষ কি তবে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে বিষ কিনে খাচ্ছিলেন ?
সকাল-সকাল একযোগে ৩০টি দল নামল ২৬টি হোটেল তল্লাশি অভিযানে। কর্নাটকের Food Safety and Drug Administration Department অর্থাৎ সংক্ষেপে BBMP-র বিভিন্ন ওয়ার্ডে একই সময়ে অভিযান চালায়। শহরের ২৬টি নামী হোটেল খতিয়ে দেখতে নামানো হয়েছিল মোট ৩০টি দলকে। লক্ষ্য ছিল একটাই – বড় বড় হোটেলগুলিও FSSAI-র নিয়ম মানছে কিনা তা যাচাই করা।
সবচেয়ে বড় অনিয়মের ছবি মিলল Radisson Blu (The Atria)-তে। ওখান থেকেই সর্বাধিক ১০৫ কেজি নষ্ট খাবার বাজেয়াপ্ত করে ফেলে দেওয়া হয়। তার মধ্যে ছিল ৫০ কেজি মেয়াদ-পেরোনো চিকেন, ২৫ কেজি মাংস, ২৩ কেজি মাছ এবং ৭ কেজি পচা সবজি।
অন্য হোটেলগুলির অবস্থাও প্রায় একই রকম:
১) The Lalit Ashok (Annex South)-এ ৭৬ কেজি মাংস, ২০০ কেজি সবজি এবং ৩২ লিটার বাসি দুধ নষ্ট করা হয়।
২) Taj Yeshwantpur-এ ৭২ কেজি মাংস ও মাছ বাজেয়াপ্ত।
৩) Four Seasons Hotel Bengaluru-তে ১৯ কেজি মাংস বাজেয়াপ্ত।
৪) Shangri-La Bengaluru-তে ১৫ কেজি মাংস।আজেয়াপ্ত
৫) Vivanta Bengaluru Whitefield-এ
মেয়াদ-উত্তীর্ণ বেকারির জিনিস নষ্ট।
এছাড়াও রান্নাঘর এবং গুদামের নোংরা অবস্থা, সব্জিতে ছত্রাক এবং খাবার ভুল পদ্ধতিতে রাখার অভিযোগও উঠেছে একাধিক হোটেলের বিরুদ্ধে।
সবকিছু পরিদর্শনের পর আধিকারিকরা জানিয়েছেন, হোটেলগুলি FSSAI-এর একাধিক নিয়ম মানেনি।
ভুল লেবেল লাগানো খাবার বিক্রি করছে। FSSAI-এর প্যাকেটজাতকরণের নিয়ম অমান্য করেছে। নিরামিষ-আমিষ খাবার একসাথে রেখে মানুষের বিশ্বাসের সাথে প্রতারনা পর্যন্ত করছে। রান্নার তেল, মশলা ও সসের মান নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
অভিযানের সময় চিকেন, মাটন, মাছ, দুধ, তেল, মশলা, চিজ, টমেটো সস সহ মোট ৩৫ ধরনের খাবারের স্যাম্পেল ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট এলে Food Safety and Standards Act, ২০২৬ অনুযায়ী দোষী হোটেলগুলির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই নোটিস পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট Food Business Operators-দের।
গোটা বিষয় নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন কর্নাটকের স্বাস্থ্যমন্ত্রী UT Khader । তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন, “হোটেল যত বড়ই হোক না কেন, খাবারের গুণমান ও পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে কোনও আপস করা হবে না। নিয়ম ভাঙলে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন – মোটা টাকা খরচ করে পাঁচতারা হোটেলে খাওয়া কি সত্যিই নিরাপদ? ব্র্যান্ডের চমকের আড়ালে কি আমাদের স্বাস্থ্য নিয়ে খেলা হচ্ছে? ল্যাবের রিপোর্ট এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর সবার। আপাতত এই অভিযান বেঙ্গালুরুর খাদ্য প্রেমীদের জন্য একটা বড় শিক্ষা হয়ে থাকলো।