নাগপুর, ৩১ জুলাই, muthokotha.in: ক্রিকেট মাঠে ব্যাট-বল নিয়ে যিনি বড় স্বপ্ন দেখতেন, জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেওয়ার কথা ভাবতেন, সেই ১৭ বছরের অদিতি চৌখান্ডে আর নেই। বিদর্ভ ক্রিকেট দলে জায়গা না পাওয়ার হতাশা তাঁকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গেল, যেখান থেকে তিনি আর কখনোই ফিরে আসবেন না।
বৃহস্পতিবার সকালে নাগপুরের বাজাজ নগর থানার লক্ষ্মী নগর এলাকার বাড়ি থেকে অদিতির ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার খবর পেয়ে গোটা ক্রিকেট মহল শোকস্তব্ধ।
মূলত মহারাষ্ট্রের আকোলার বাসিন্দা অদিতি। বাবা সিভিল কন্ট্রাক্টর। ক্রিকেটের জন্য কিছুদিন আগেই মা ও দাদা প্রবাল চৌখান্ডের সঙ্গে নাগপুরে এসে থাকতে শুরু করেন তিনি। দাদা প্রবালও একজন উদীয়মান ক্রিকেটার। ভাই-বোন মিলে রোজ অনুশীলন করতেন।
সম্প্রতি দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা শেষ করেছেন অদিতি। লক্ষ্য ছিল একটাই , — পেশাদার ক্রিকেটার হওয়া, বিদর্ভ সিনিয়র দলে খেলা। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি আবেগঘন সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে। নোটে অদিতি লিখেছেন,— “দাদু, তুমি খুব ভালো খেলো। তুমি একজন মহান খেলোয়াড় হবে। তোমার বাবা-মায়ের জন্য গৌরব বয়ে আনো। আমি নির্বাচিত না হওয়ায় দুঃখিত।”
পুলিশ ও পরিবারের কথায়, বুধবার রাতে মায়ের সঙ্গে খাবার খেয়ে নিজের ঘরে যান অদিতি। বৃহস্পতিবার সকালে আর সাড়া না পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পরিবারের লোকেরা দেখেন ফাঁসিতে ঝুলছেন অদিতি। ঘটনার সময় দাদা প্রবাল শহরের বাইরে ছিলেন।
বাজাজ নগর থানার সিনিয়র ইন্সপেক্টর চেতন চৌহান জানিয়েছেন,— “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে সিনিয়র দলে নির্বাচিত না হওয়ার হতাশাই তাঁকে এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।” পুলিশ পঞ্চনামা করে মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। একটি আকস্মিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। তদন্ত শেষ হলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মাত্র ১৭ বছর বয়সে সামনে পুরো ক্যারিয়ারকে বিদায় জানিয়ে, একটা ট্রায়ালে সুযোগ না পাওয়াই কি জীবনের শেষ কথা? নাকি এর পেছনে অন্য কোনও কারণ লুকিয়ে আছে! তদন্ত শেষে নিশ্চয়ই এর উত্তর পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।