আড়াই মাস পর বোর্ড গঠন অমর্ষি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতে, প্রধান শেফালী কর, উপপ্রধান শচীন্দ্রনাথ গিরি
পটাশপুর, পূর্ব মেদিনীপুর, ২৭ জুলাই , muthokotha.in: আড়াই মাসের অচলাবস্থার অবসান। পটাশপুর-১ ব্লকের অন্তর্গত অমর্ষি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতে আজ নতুন করে বোর্ড গঠন হল। ভারতীয় জনতা পার্টির নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্য-সদস্যাদের নিয়েই গঠিত হল এই নতুন বোর্ড। সম্মানীয় BDO সাহেবের উপস্থিতিতে পঞ্চায়েতের আইন মেনেই আজ বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই গ্রাম পঞ্চায়েতে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই ছবিটা বদলাতে শুরু করে।
অভিযোগ, হঠাৎ করেই তৃণমূলের ১ জন পঞ্চায়েত সদস্য-সদস্যা, প্রধান ও উপপ্রধান সহ সকলেই পদত্যাগ করেন। গত আড়াই মাস ধরে তাঁদের কেউই গ্রাম পঞ্চায়েতে আসেননি। বিরাট অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল।
স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার উন্নয়নকে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্যই এই চক্রান্ত করা হয়েছিল। এর ফলে গত আড়াই মাস ধরে গ্রাম পঞ্চায়েতের নাগরিক পরিষেবা সম্পূর্ণরূপে ব্যাহত হয়। জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র থেকে শুরু করে রাস্তা, পানীয় জল, আবাস — কোনও কাজই হচ্ছিল না।
এই পরিস্থিতিতে পঞ্চায়েত আইন মেনে সোমবার নতুন বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। BDO-র উপস্থিতিতে ভোটাভুটির মাধ্যমে এদিন নতুন পদাধিকারী নির্বাচিত হন। নবনির্বাচিত প্রধান হয়েছেন শেফালী কর। উপপ্রধান নির্বাচিত হয়েছেন শচীন্দ্রনাথ গিরি । এছাড়াও বাকি সদস্য-সদস্যরাও শপথ গ্রহণ করেন।
নতুন প্রধান শেফালী কর বলেন, “আড়াই মাস ধরে মানুষ কোনো পরিষেবা পাননি। আমাদের প্রথম কাজ হবে স্তব্ধ হয়ে যাওয়া উন্নয়নমূলক কাজগুলো দ্রুত শুরু করা। আমরা অবশ্যই স্বচ্ছতার সঙ্গে পঞ্চায়েত চালাবো।”
উপপ্রধান শচীন্দ্রনাথ গিরি বলেন, “মানুষ আমাদের উপর ভরসা রেখেছে। আমরা সেই ভরসার মান রাখব।”
এদিন নবনির্বাচিত প্রধান, উপপ্রধান সহ সকল পঞ্চায়েত সদস্য ও সদস্যাদের অভিনন্দন জানানো হয় বিজেপি দলের পক্ষ থেকে। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেতা ও শিক্ষক তাপস মাজী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
পঞ্চায়েতের নতুন বোর্ড গঠনের ফলে অমর্ষি-২ এলাকার বাসিন্দারা ফের নাগরিক পরিষেবা ফিরে পাওয়ার আশায় বুক বাঁধছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।