নিজস্ব প্রতিনিধি, ১২ জুলাই, কলকাতা : “বাবা” ডাকটার ওজন কতটা হতে পারে, তা প্রমাণ করলেন কলকাতার তরুণী রাখি দত্ত। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই যে সিদ্ধান্ত অনেক প্রাপ্তবয়স্কও নিতে পারেন না, সেই কঠিন সিদ্ধান্তই নিলেন তিনি।
মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনলেন বাবাকে। রাখির বাবা সুদীপ দত্ত লিভারের মারাত্মক রোগে আক্রান্ত ছিলেন। চিকিৎসকরা সাফ জানিয়ে দেন – দ্রুত লিভার প্রতিস্থাপন না হলে বাঁচানো যাবে না।
পরীক্ষায় দেখা যায় রাখির লিভার বাবার শরীরের সঙ্গে ম্যাচ করেছে। আর দ্বিতীয়বার ভাবেননি মেয়ে। বিন্দুমাত্র দেরি না করে নিজের লিভারের অংশ দিয়ে বাবাকে বাঁচানোর সিদ্ধান্ত নেন।
হয়েছিল এক অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল অস্ত্রোপচার। টানা ১৫ ঘণ্টা ধরে চলে অপারেশন। রাখির লিভারের প্রায় ৬৫% অংশ কেটে নিয়ে তা সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয় বাবার শরীরে।
চিকিৎসকদের নিখুঁত প্রচেষ্টা আর মেয়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসার জোরে অলৌকিকভাবেই বাবা-মেয়ে দুজনেই সুস্থ হয়ে ফিরে আসেন নতুন জীবনে।
এই গল্প শুধু চিকিৎসার সাফল্য নয়। এটা সন্তানের ভালোবাসা, সাহস আর ত্যাগের গল্প। যে বয়সে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা থাকে, ক্যারিয়ারের স্বপ্ন থাকে, সেই বয়সেই রাখি বেছে নিলেন সবচেয়ে কঠিন পথ – বাবার জন্য নিজের শরীরের একটা অংশ তুলে দেওয়া।
আজও এই ঘটনা হাজারো মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। প্রমাণ করে দেয়, রক্তের সম্পর্কের বাঁধন কতটা অটুট হতে পারে।