নিজস্ব প্রতিনিধি,সামশেরগঞ্জ, মুর্শিদাবাদ, ৭ জুলাই ২০২৬: লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পর এবার প্রতিবন্ধী ভাতা নিয়ে বিস্ফোরক দুর্নীতির অভিযোগ সামশেরগঞ্জে। তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য অসিকুল ইসলামের পরিবারের ১৫ জন সুস্থ সদস্য বছরের পর বছর সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা তুলছেন বলে অভিযোগ। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য অসিকুল ইসলামের স্ত্রী রেশমা লাইলা, তিন ছেলে মহম্মদ আদিল ইসলাম, মহম্মদ সাইফ ইসলাম ও সাজিদ ইসলাম সহ ভাই, কাকা, ভাইপো ও ভাইঝিদের নাম সরকারি নথিতে ‘প্রতিবন্ধী’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তালিকাভুক্ত সকলেই শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ। অথচ প্রতিমাসে তাঁদের অ্যাকাউন্টে ঢুকছে মানবিক ভাতার টাকা।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, প্রকৃত প্রতিবন্ধীরা যখন সরকারি সাহায্যের জন্য বছরের পর বছর ব্লক অফিসে ঘুরে বেড়ান, তখন কীভাবে এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার পরিবারের ১৫ জন সদস্য ভাতার তালিকায় নাম তুললেন? কার মদতে এই অনিয়ম চলল, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। বিডিও অফিস ও সমাজকল্যাণ দফতরের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধীরা।
এবিষয়ে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা অসিকুল ইসলাম সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। আমার পরিবারের কেউ বেআইনিভাবে ভাতা নেয়নি। প্রশাসন তদন্ত করুক।”
ঘটনা সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিজেপির দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সরকারি প্রকল্পকে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে লুঠ করা হচ্ছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং ভুয়ো উপভোক্তাদের তালিকা প্রকাশের দাবি তুলেছে বিরোধী দলগুলি।