মহাকাশ জয়ের আঙিনায় পূর্ব মেদিনীপুরের মেয়ে মধুমিতা মাইতি! বুকভরা গর্ব বাংলার
অলকেশ মাইতি, ১২ জুলাই, মহিষাদল, পূর্ব মেদিনীপুর: ‘ভাঙা ঘর থেকে চাঁদের দিকে ডানা মেলা’—প্রবাদটা সত্যি করে দেখাল মহিষাদলের মেয়ে মধুমিতা মাইতি। লক্ষ্যা হাই স্কুলের এই মেধাবী ছাত্রী আজ সমগ্র বাংলার গর্ব।
ভারতের প্রথম সম্পূর্ণ মহিলা-পরিচালিত চন্দ্র উপগ্রহ প্রকল্প “মিশন শক্তিস্যাট” (Mission ShakthiSAT)-এর আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট নির্মাণ প্রশিক্ষণে সুযোগ পেয়েছে সে।
বিশ্বের ১০৮টি দেশ থেকে মাত্র ১ জন করে ছাত্রী এই মঞ্চে সুযোগ পাচ্ছে। ভারতের কোটি কোটি ছাত্রীর মধ্যে থেকে বাছাই করা হয়েছে মাত্র ২১ জনকে। আর তাদের মধ্যে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধি মধুমিতা।
ISRO এবং স্পেস কিডজ ইন্ডিয়ার বিজ্ঞানীদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সে নিজের হাতে স্যাটেলাইট তৈরির প্রশিক্ষণ নেবে।
মহিষাদলের এক প্রান্তিক গ্রাম। সাধারণ স্কুল লক্ষ্যা হাই স্কুল। সেখান থেকে উঠে এসে সমস্ত বাধা-বিপত্তিকে হারিয়ে আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছেছে মধুমিতা।
তার এই সাফল্য প্রমাণ করল—ইচ্ছেশক্তি আর মেধা থাকলে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। যে মেয়েরা একদিন ঘরের কোণে আটকে থাকত, আজ মধুমিতার হাত ধরে তারাই মহাকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখছে।
এই রূপকথার নেপথ্যে রয়েছেন মধুমিতার রত্নগর্ভা মা-বাবা এবং লক্ষ্যা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা। তাঁরা বুক দিয়ে আগলে এই রত্নটিকে তৈরি করেছেন।
মধুমিতার সাফল্যের পর এখন দাবি উঠেছে, যে স্কুলটির নাম সে বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল করল সেই লক্ষ্যা হাই স্কুলকে কেন্দ্রীয় সরকারের “PM SHRI” প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হোক।
পরিকাঠামো উন্নত হলে এই মাটি থেকেই আগামী দিনে আরও অনেক মধুমিতা তৈরি হবে, যারা দেশের নাম উজ্জ্বল করবে। ভারত সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে এই বিনীত প্রার্থনা জানিয়েছেন এলাকার মানুষ।