নিজস্ব প্রতিনিধি, বারুইপুর, ৭ জুলাই ২০২৬: বারুইপুরে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় এবার সামনে এল মানবপাচার চক্রের ভয়ঙ্কর যোগ। SIT-এর জেরায় উঠে এসেছে, অপহরণ করে পাচার করাই ছিল মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারের প্রধান উদ্দেশ্য। পাচারের আগেই গণধর্ষণ করে জীবন্ত অবস্থায় বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় নাবালিকাকে। ঘটনায় এখনও অধরা আরও এক অভিযুক্ত প্রবীর মণ্ডল।
SIT সূত্রে খবর, ঘটনার ১০-১২ দিন আগে থেকেই নাবালিকার উপর নজর রাখছিল আনন্দ সর্দার। সহ-অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে সে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, নাবালিকাকে ভুলিয়ে নিয়ে আসতে পারলে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। আনন্দের নির্দেশেই শনিবার বান্ধবীর জন্মদিনের কথা বলে নাবালিকাকে ডেকে আনে প্রভাস।
তদন্তে জানা গিয়েছে, অপহরণের পর নাবালিকাকে একটি ঘরে হাত বেঁধে আটকে রাখা হয়। সেই ঘরেই আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দার, প্রভাস মণ্ডল এবং আরও দুজন বসে মদ্যপান করছিল। জেরায় ধৃতরা স্বীকার করেছে, পাচারের আগে ওই ঘরেই আনন্দ ও তার তিন সহযোগী মিলে নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতন চালায়।
গণধর্ষণের পর নাবালিকা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে বস্তায় ভরে অন্যত্র পাচারের ছক কষে। কিন্তু বস্তা ছিঁড়ে যাওয়ায় ধরা পড়ার ভয়ে সংজ্ঞাহীন অবস্থাতেই তাকে পুকুরে ফেলে দেয় তারা। ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও মিলেছে, জলে ফেলার সময় নাবালিকা জীবিত ছিল। ফুসফুসে কাদা-জল পাওয়ায় তা প্রমাণিত।
তদন্তকারীদের হাতে বড় প্রমাণ মোবাইল টাওয়ার লোকেশন। ঘটনার দিন রাত ৮টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত আনন্দ, দিবাকর, প্রভাস এবং পলাতক প্রবীর মণ্ডলের মোবাইল লোকেশন একই জায়গায় ছিল। এই তথ্যই প্রমাণ করছে, ঘটনার সময় চারজনই একসঙ্গে ছিল। প্রবীরকে ধরতে তল্লাশি চলছে।
মানবপাচারের যোগ মেলায় তদন্তে রাজ্য পুলিশের অ্যান্টি হিউম্যান ট্রাফিকিং ইউনিটকে যুক্ত করেছে SIT। অভিযুক্তদের দাবি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের অনুমান, এই চক্রের সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত। নাবালিকাকে কোথায় পাচারের পরিকল্পনা ছিল, তা জানতে জেরা চলছে।
রবিবার নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর থেকেই উত্তপ্ত বারুইপুর। শিয়ালদহ-নামখানা লাইনে রেল অবরোধ ও সড়ক অবরোধে প্রায় ৫ ঘণ্টা স্তব্ধ ছিল জনজীবন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজিত জনতার ছোড়া ঢিলে আহত হন কয়েকজন পুলিশকর্মী। এক সন্দেহভাজনকে গণপ্রহার করলে তার মৃত্যু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামাতে হয় RAF।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত ৬ সদস্যের SIT দ্রুত তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।