নিজস্ব প্রতিনিধি, বারুইপুর, ৭ জুলাই ২০২৬:আরজি কর কাণ্ডের স্মৃতি উসকে দিয়ে ফের নাবালিকার উপর বর্বরোচিত অত্যাচার রাজ্যে। বারুইপুরে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে বস্তাবন্দি অবস্থায় জীবন্ত পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল। সোমবার ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে পেতেই শিউরে উঠছে পুলিশ-প্রশাসন। রিপোর্টে ছত্রে ছত্রে উঠে এসেছে নৃশংসতার বিবরণ।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত শনিবার বান্ধবীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরোয় বারুইপুরের ওই নাবালিকা। সারাদিন পেরিয়ে গেলেও বাড়ি না ফেরায় খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। রবিবার সকালে স্থানীয় একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হয় তার নিথর দেহ। পরিবারের অভিযোগ, ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে মেয়েকে। ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়ায়।
সোমবার পাওয়া ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী:
১. জীবন্ত অবস্থাতেই জলে ফেলা হয়:– নাবালিকার ফুসফুসে কাদা-জল মিলেছে। চিকিৎসকদের মতে, মৃত্যুর পর দেহ জলে ফেললে ফুসফুসে জল ঢোকে না। ডুবে মৃত্যু হলেই এটা সম্ভব। অর্থাৎ বস্তাবন্দি করে যখন জলে ফেলা হয়, তখনও সে জীবিত ছিল।
২. বীভৎস নির্যাতনের চিহ্ন:– দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন। গোপনাঙ্গেও ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। মাথায় গুরুতর চোট রয়েছে।
৩. মৃত্যুর কারণ:– অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও জলে ডুবে শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান।
ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারকে বারুইপুর থেকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত বাকি দুজন প্রভাস মণ্ডল ও দিবাকর সর্দার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে ৬ সদস্যের SIT গঠন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। দোষীদের কঠোরতম শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই ঘটনার পর নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অভয়া কাণ্ডের পর ফের নাবালিকার সঙ্গে এমন ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয়রা। দ্রুত চার্জশিট ও ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে বিচারের দাবি তুলেছেন তাঁরা।