বারুইপুর, ৬ জুলাই ২০২৬: বারুইপুরে ১২ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের চাঞ্চল্য। যে পুকুর থেকে রবিবার সকালে ওই কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়েছিল, সেই একই পুকুর থেকে সোমবার উদ্ধার হল আরও একটি পচাগলা মৃতদেহ। এখনও পর্যন্ত মৃতের পরিচয় জানা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সূর্যপুর হাট এলাকার ওই পুকুরেই রবিবার সকালে ১২ বছরের নাবালিকার দেহ ভাসতে দেখা যায়। পরিবারের অভিযোগ, শনিবার বিকেল ৪টে নাগাদ খাবার কিনতে বেরিয়ে নিখোঁজ হয় সে। পরে চার অভিযুক্ত তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে শ্বাসরোধ করে খুন করে বলে অভিযোগ।
ওই ঘটনায় উত্তেজিত জনতা এক যুবককে পিটিয়ে মারে। অভিযোগ, শনিবার বিকেলে ওই যুবকের অটোতেই কিশোরীকে শেষবার দেখা গিয়েছিল। ঘটনার পর থেকে থমথমে গোটা এলাকা।
এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সোমবার একই পুকুর থেকে আরও একটি পচাগলা দেহ উদ্ধার করল বারুইপুর থানার পুলিশ। তবে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, নাবালিকার ঘটনার সঙ্গে এই নতুন দেহ উদ্ধারের কোনও যোগ নেই।
এদিকে বারুইপুর কাণ্ডে মৃত নাবালিকার বাবার সঙ্গে ইতিমধ্যেই ফোনে কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রত্যেক দোষীকে কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
নাবালিকা খুনের ঘটনায় তদন্তে কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না পুলিশ। ইতিমধ্যেই ৬ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। বারুইপুর থানায় মোট তিনটি মামলা রুজু হয়েছে:
১. নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের মামলা
২. পুলিশের উপর হামলার মামলা
৩. যুবককে পিটিয়ে মারার ঘটনায় মামলা
পুলিশ জানিয়েছে, নতুন উদ্ধার হওয়া পচাগলা দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর কারণ ও পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুকুর থেকে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।