ফুটবলের রূপকথা: ২০০৭-এর সেই শিশুই ২০২৬-এ মেসির সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ
২০০৭ সালে ইউনিসেফের একটা চ্যারিটি ফটোশুট। ২০ বছরের তরুণ লিওনেল মেসি প্লাস্টিকের টবে পরম যত্নে স্নান করাচ্ছেন ৬ মাসের এক শিশুকে।
১৯ বছর পর ২০২৬-এ এসে সেই ছবিটাই ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চিত্রনাট্য হয়ে গেল।
কারণ সেই শিশুই এখন লামিন ইয়ামাল – স্পেনের বিস্ময় বালক। আর রবিবার নিউ জার্সির মেগা ফাইনালে সেই ইয়ামালই দাঁড়াবে মেসির মুখোমুখি।
কীভাবে তৈরি হল এই মহাকাব্য?
- ২০০৭: স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘দিয়ারিও স্পোর্ট’-এর দাতব্য লটারিতে ভাগ্যক্রমে জেতে ইয়ামালের পরিবার। পুরস্কার: মেসির সঙ্গে ছবি। সেই ছবি আজ কিংবদন্তি।
- ২০২৬: সেমিতে স্পেন ফ্রান্সকে ২-০ হারিয়ে ২০১০-এর পর প্রথমবার ফাইনালে। আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে ২-১ হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে।
- ফল: বার্সেলোনার প্রতিষ্ঠাতা বনাম তার উত্তরসূরি। অতীত বনাম ভবিষ্যৎ।
গত বছর ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউই ছবিটা শেয়ার করে লিখেছিলেন, “দুই কিংবদন্তির পথচলার শুরু।” আজ সেই ভবিষ্যদ্বাণীই সত্যি হতে চলেছে।
গত ১৩ জুলাই ১৯-এ পা দেওয়া ইয়ামাল হেসে বলেছেন, “আমিও একটু বড় হয়েছি, লিও-ও একটু বড় হয়েছে। বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসির মুখোমুখি হতে দারুণ লাগবে।”
অন্যদিকে ৩৯ বছর বয়সী মেসি-র জন্য এটা হতে পারে ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। তিনি চাইবেন ট্রফি জিতে রূপকথার শেষ অধ্যায়টা সোনায় মুড়তে।
উনিশ বছর আগে যে হাত একটা শিশুকে আশীর্বাদের মতো করে স্নান করিয়েছিল, আজ সেই হাতই তাকে থামানোর ছক কষবে।
আর যে শিশু একদিন মেসির কোলে ছিল, আজ সে-ই মেসির বিশ্বজয়ের পথে সবচেয়ে বড় কাঁটা।