প্রয়াত কিংবদন্তি গায়িকা: দেশজুড়ে শোকের আবহ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ১২ জুলাই,মইসুরু: শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ভারতীয় সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তি এস জানকী। ‘নাইটিঙ্গল অফ সাউথ ইন্ডিয়া’ নামে পরিচিত এই বর্ষীয়ান শিল্পী শনিবার, ১ জুলাই ২০২৬ রাতে মইসুরুর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। বয়স হয়েছিল ৮ বছর।
শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি বয়সজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তাঁর প্রয়াণের খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন নাতনি অপ্সরা ভাইদুলা।
অপ্সরা লিখেছেন, “পরিবারের ভালবাসায় ঘেরা অবস্থায় তিনি শান্তভাবে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আমাদের মন ভারাক্রান্ত হলেও, তাঁর অসাধারণ জীবন এবং কালজয়ী সঙ্গীতের মাধ্যমে লক্ষ মানুষের জীবনে তিনি যে অসীম আনন্দ ছড়িয়ে দিয়েছেন– তাঁর জন্য আমরা কৃতজ্ঞতায় পূর্ণ। বিশ্বের কাছে তিনি ছিলেন এক কিংবদন্তিতুল্য কণ্ঠস্বর, যাঁর গান অগণিত স্মৃতির অংশ হয়ে আছে।”
ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এস জানকীর অবদান অনস্বীকার্য। ৬ দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি গান গেয়েছেন।
রেডিও, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, অ্যালবাম সহ তামিল, তেলুগু, মালয়ালম, কন্নড় , হিন্দি – মোট ২০টি ভারতীয় ভাষায় তিনি ৪৮০০০-এরও বেশি গান রেকর্ড করেছেন। যা তাঁকে দেশের অন্যতম সর্বাধিক গান গাওয়া প্লেব্যাক শিল্পী করে তুলেছে।
তার কালজয়ী গানগুলি:
- তামিল: ‘সেন্থুরা পুভে’
- তেলুগু: ‘মৌনামেলানোয়ি’
- মালয়ালম: ‘ইঞ্জি ইদুপ্পাঝাগি’
- হিন্দি: ‘ইয়ার বিনা চ্যান কাঁহা রে’, ‘বোল বেবি বোল রক এন রোল’
চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছেন তিনি।
পদ্মভূষণ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন
২০১৩ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মভূষণ সম্মান দিতে চাইলে তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। তার বক্তব্য ছিল, কেরিয়ারের এই পর্যায়ে এসে এই সম্মান “অনেক দেরিতে” দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি দক্ষিণ ভারতের শিল্পীদের আরও বেশি স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্
এস জানকী ১৯৩৮ সালের ২৩ এপ্রিল অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুর জেলার পাল্লাপাটলায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা শ্রীরামমূর্তি ছিলেন আয়ুর্বেদ চিকিৎসক ও শিক্ষক।
শৈশব কেটেছে সিরসিল্লায়। মাত্র ৯ বছর বয়সেই প্রথম মঞ্চে গান করেন। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ না থাকলেও, নাদস্বরম বাদক পাইডিস্বামীর কাছ থেকে সঙ্গীতের প্রাথমিক পাঠ নেন।
একটা যুগের অবসান হল। তাঁর কণ্ঠে বেজে ওঠা গান প্রজন্মের পর প্রজন্মের স্মৃতিতে থেকে যাবে। ‘জানকী আম্মা’ নেই, কিন্তু তাঁর সুর অমর।