এন.আর.এস হাসপাতালে নার্সের রহস্যজনক মৃত্যু, পরিবারের অভিযোগ ‘ষড়যন্ত্র করে খুন’
১৩ আগস্ট, পটাশপুর, http://muthokotha.in: কর্তব্যরত অবস্থায় অস্বাভাবিক মৃত্যু হল এক নার্সের। পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা বা স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং ষড়যন্ত্র করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের সাউৎখণ্ড গ্রামে।
মৃতের নাম রুপালি বর্মণ, বয়স ৩৬ বছর। পটাশপুর থানার সাউৎখণ্ড গ্রামের বাসিন্দা রুপালি কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পরিবারের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৫ দিন আগে বাড়িতে এসেছিলেন রুপালি। সেখান থেকে কাজে যোগ দেওয়ার পরপরই ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগের HDU-তে ডিউটি করছিলেন তিনি। সেই সময় ফেন্টানিলের তিনটি ভায়াল নিয়ে শৌচাগারে যান রুপালি। অনেকক্ষণ বের না হওয়ায় সহকর্মীদের সন্দেহ হয়। পরে দরজা ভেঙে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে বুধবার রাতেই জামাই ফোন করে মৃত্যুর খবর জানান পরিবারকে। এরপর থেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন সাউৎখণ্ডের বর্মণ পরিবার।
কৃষক অর্জুনচন্দ্র বর্মণের মেয়ে রুপালি। অভাবের সংসারেও মেয়েকে মানুষ করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন বাবা-মা। পড়াশোনায় ছোট থেকেই আগ্রহী ছিলেন রুপালি।
রুপালির বাবা অর্জুনচন্দ্র বর্মণ বলেন, “আমার মেয়ে খুব হাসিখুশি ছিল। রোগীদের সঙ্গে গল্প করত, জড়িয়ে ধরে কথা বলত। ওর নামে কোনোদিন কোনো বদনাম শুনিনি। কীভাবে এমন হল আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না।”
পরিবারের স্পষ্ট দাবি, এই মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে। তাঁরা নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চান। প্রয়োজনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও তাঁরা আবেদন জানাবেন বলে জানিয়েছেন।
এই ঘটনায় এখনও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে পুলিশ মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রুপালির আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা পটাশপুর সহ সাউৎখণ্ড। স্থানীয়দের দাবি, দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। অন্যথায় তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পটাশপুর থেকে কলকাতা পর্যন্ত নার্স মহলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এরই সঙ্গে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে– কেন বার বার হাসপাতালে এই ধরনের কর্তব্যরত নার্স বা ডাক্তারদের যখন তখন মৃত্যুর খবর শোনা যায়?