জঙ্গলমহলের সাংস্কৃতিক আকাশ থেকে খসে পড়ল এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। সকলের প্রিয় ঝুমুর শিল্পী রজনীর আকস্মিক প্রয়াণে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে সমগ্র লোকসংগীত জগতে।
রজনী পাত্র শুধু একজন শিল্পী ছিলেন না, ছিলেন জঙ্গলমহলের মাটির সুর। তাঁর দরাজ কণ্ঠ আর মাটির গন্ধমাখা গায়কী অল্প সময়েই মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিল। ঝুমুরের ঐতিহ্যকে আধুনিক প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। অসংখ্য মঞ্চে, গ্রামীণ আসরে, এমনকি ডিজিটাল মাধ্যমেও তাঁর গান ছড়িয়ে পড়েছিল লক্ষ শ্রোতার কাছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। সব চেষ্টা ব্যর্থ করে চলে গেলেন অসময়ে। তাঁর এই আকস্মিক চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না অনুরাগীরা। সোশ্যাল মিডিয়া ভরে উঠেছে শোকবার্তায়। সহশিল্পীরা বলছেন, “বিশ্বাসই হচ্ছে না। কালও যে মানুষটা গান নিয়ে পরিকল্পনা করছিল, আজ সে নেই।”
রজনীর প্রয়াণ জঙ্গলমহলের লোকসংস্কৃতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি শুধু গান গাইতেন না, ঝুমুরকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াই করতেন। তরুণ প্রজন্মকে এই গানের প্রতি আগ্রহী করে তুলেছিলেন। তাঁর অসম্পূর্ণ স্বপ্নগুলো আজ সকলের চোখে জল এনে দিচ্ছে।
শুক্রবার বিকেলে তাঁর গ্রামের বাড়িতে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। জেলার বহু শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন।
তাঁর কণ্ঠ থেমে গেলেও, রজনীর গান, তাঁর সুর আর জঙ্গলমহলের প্রতি তাঁর ভালোবাসা চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে। শিল্পী চলে যান, শিল্প থেকে যায়।
জঙ্গলমহল গভীর শোকাহত। রজনীর আত্মার শান্তি কামনা করে , তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বহু শিল্পী।