ISRO থেকে দলে দলে বিজ্ঞানীর পদত্যাগ, উদ্বেগে কেন্দ্র: গগনযান অভিযানের মুখে বড় ধাক্কা
নিজস্ব প্রতিনিধি, ১৭ জুলাই ,কলকাতা: মানুষকে মহাকাশে পাঠানোর ‘গগনযান’ অভিযানের প্রস্তুতির মধ্যেই ISRO-র জন্য এল বড় ধাক্কা। গত কয়েক মাসে ১০০-১২০ জন বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি কর্মী সংস্থা ছেড়েছেন। পদত্যাগের এই ঢেউয়ে নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার।
কোথায় কত ক্ষতি?
পদত্যাগের হার সবচেয়ে বেশি বেঙ্গালুরু ও তিরুঅনন্তপুরমের দুটি প্রধান কেন্দ্রে।
- U R Rao স্যাটেলাইট সেন্টার, বেঙ্গালুরু: ৮০ জন বিজ্ঞানীর ইস্তফা
- বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টার, তিরুঅনন্তপুরম: ২০ জন বিজ্ঞানীর ইস্তফা
আরও বেশ কয়েকজনের আবেদন জমা পড়েছে, ছাড়পত্র এখনও মেলেনি।
যাঁরা ছাড়লেন, তাঁরা কারা?
এবারের পদত্যাগীদের মধ্যে রয়েছেন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুখ।
- ভিক্টর জোসেফ – LVM3 প্রজেক্টের ডিরেক্টর
- আদিত্য রাল্লাপল্লি – SpaDeX প্রজেক্টের ডিরেক্টর। তিনি ‘চন্দ্রযান-৩’-এর চাঁদে অবতরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন।
ISRO-র চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেছেন, “এটা প্রত্যেক সংস্থাতেই ঘটে। গুরুত্বপূর্ণ অভিযান ধাক্কা খাবে না। একজন গেলে অন্য কেউ দায়িত্ব নেবেন।”
কেন্দ্রের কড়া নির্দেশিকা: আর ‘যখন খুশি’ পদত্যাগ নয়
এত পদত্যাগের পরই সতর্ক হয়েছে কেন্দ্র। মহাকাশ বিভাগ নতুন বিধি জারি করেছে।
নয়া নিয়মে কী থাকছে?
- ‘গনযান’ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ‘A’ গ্রুপের বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি কর্মীরা এখন রুটিন ম্যাটার হিসেবে স্বেচ্ছাবসর বা পদত্যাগের আবেদন করতে পারবেন না।
- অভিযান সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সেন্টার ডিরেক্টর বা ইউনিট হেডরা কোনও আবেদন গ্রহণ করবেন না।
- আবেদন সরাসরি পাঠাতে হবে মহাকাশ বিভাগে। সেন্টার ডিরেক্টররা শুধুমাত্র সুপারিশ জানাবেন।
২০২০ সালে ক্ষমতা ছিল সেন্টার ডিরেক্টরদের হাতে। নয়া নিয়মে সেই ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হল।
কেন ছাড়ছেন বিজ্ঞানীরা? বেতনই কি কারণ?
সরকারিভাবে কারণ জানানো হয়নি। তবে ইস্যুটি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।
ISRO-র প্রাক্তন চেয়ারম্যান এস সোমনাথ আগেই বেতন কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর কথায়, “ISRO-র সর্বোচ্চ পদের বেতন ২.৫ লক্ষ টাকা। অথচ IIT-র ছেলেমেয়েরা বেসরকারি সংস্থায় চাকরি শুরুতেই এই টাকা পায়।” তাই মেধাবীরা আগ্রহ হারাচ্ছেন।
সংখ্যার ছবি
- ISRO-র মোট কর্মী: ১৪,৬০+
- ২০১২ থেকে ২০২৪ সাল: প্রায় ৭০ জন ইস্তফা
- বর্তমানে শূন্যপদ: ১০৫০টি
যদিও সংখ্যার বিচারে ১০০ জনের পদত্যাগ বড় কিছু নয়। কিন্তু উদ্বেগের জায়গা হল, যাঁরা যাচ্ছেন তাঁরা প্রায় সকলেই গগনযান, চন্দ্রযান ও SpaDeX-এর মতো দেশের ফ্ল্যাগশিপ মিশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীদের ঘাটতি ভবিষ্যতের অভিযানে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।