“তিরঙ্গার রঙে দেশপ্রেম”: পটাশপুরে ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবসে হর ঘর তিরঙ্গা যাত্রা
অলকেশ মাইতি, পটাশপুর, পূর্ব মেদিনীপুর, ১২ আগস্ট ২০২৬: অমর শহীদ বীর ক্ষুদিরাম বসুর ১১৮ তম আত্মবলিদান দিবসে বুধবার বিকেলে গেরুয়া-সাদা-সবুজের বন্যা বয়ে গেল পটাশপুরে। ভারতীয় জনতা পার্টি, কাঁথি সাংগঠনিক জেলার পটাশপুর বিধানসভা এলাকার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই “হর ঘর তিরঙ্গা যাত্রা” কর্মসূচিতে যোগ দিলেন হাজার হাজার মানুষ। সবার হাতে জাতীয় পতাকা, মুখে “বন্দে মাতরম” ধ্বনি আর বুকে দেশপ্রেম নিয়ে মিছিল পরিণত হল জনসমুদ্রে। মেঘে ঢাকা বিকেলবেলা বন্দেমাতরম ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠলো।
বিকেল ৪টে নাগাদ পটাশপুরের মতিরামপুর তেল পাম্প থেকে শুরু হয় এই পদযাত্রা। মাথার উপর ১০ ফুটের বিশাল তিরঙ্গা, হাতে ছোট ছোট পতাকা। ছাত্র, যুবক, মহিলা, বর্ষীয়ান – বয়সের কোনো ভেদ ছিল না। স্লোগান দিতে দিতে মিছিল এগিয়ে চললো আপন বেগে।
পায়ে পায়ে মিছিল এগিয়ে গেল পটাশপুর বাজারের মধ্যে দিয়ে বাঙ্গুচক মোড়ে। এখানেই স্থাপিত আছে দেশের মণীষী ও বিপ্লবী শহীদদের পূর্ণাবয়ব মূর্তি। মূর্তিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয় ক্ষুদিরাম বসু, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, মাতঙ্গিনী হাজরাসহ অন্যান্য শহীদদের। মৃদু শব্দযোগে মাইকে বাজতে থাকে দেশাত্মবোধক গান। গোটা চত্বর তখন দেশপ্রেমের আবেগে ভাসছে। বয়স্ক মানুষদের মধ্যেও তারুণ্য টগবগ টগবগ করছে।
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির বহু নেতা এবং কর্মী-সমর্থকরা। উপস্থিত ছিলেন পটাশপুর বিজেপির বর্ষীয়ান নেতৃত্ব, পটাশপুর বিজেপির “প্রাণপুরুষ” আশিস দাস। আবেগমথিত গলায় তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন
“আজ ১১ আগস্ট। ১৯০৮ সালের এই দিনে মাত্র ১৮ বছর বয়সে হাসতে হাসতে ফাঁসির মঞ্চে গিয়েছিলেন অমর শহীদ ক্ষুদিরাম বসু। তিনি আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেছেন দেশ আগে, প্রাণ পরে। এই পদযাত্রা শুধুমাত্র পটাশপুরে হচ্ছে না, সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ এবং ভারতবর্ষ জুড়ে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজির ডাকে ঘরে ঘরে তিরঙ্গা উড়ছে। শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবসে আমাদের দেশপ্রেমের এই কর্মসূচি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই প্রতিটি বাড়িতে, প্রতিটি হৃদয়ে তিরঙ্গা পৌঁছে যাক।”
উপস্থিত ছিলেন বিধানসভার প্রোগ্রাম ইনচার্জ তথা বিশিষ্ট শিক্ষক শ্রীমন্ত পট্টনায়ক। তিনি তাঁর শিক্ষকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলেন,
“আজকের দিনে ছাত্রদের হাতে বইয়ের পাশাপাশি তিরঙ্গা তুলে দেওয়া দরকার আছে। ক্ষুদিরাম বসু ১৮ বছর বয়সে যা করে দেখিয়ে গেছেন, আজকের প্রজন্মকে সেই সাহসের কথা জানাতেই হবে। ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ শুধু একটি সরকারি কর্মসূচি নয়। এটি হলো জাতীয়তাবোধের, জাতীয় চেতনা জাগরণের একটি অক্লান্ত অভিযান। যখন একটি শিশু নিজের বাড়িতে পতাকা লাগাবে, তখন সে বুঝবে এই পতাকার মূল্য কতটা।”
এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পটাশপুর বিধানসভার বিধায়ক তপন মাইতি। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন,
“পটাশপুরের মাটি বিপ্লবের মাটি। এই মাটি ক্ষুদিরামের আদর্শ বহন করে চলে। এই এলাকার বহু বিপ্লবী দেশের জন্য স্বাধীনতা আন্দোলন করতে গিয়ে প্রাণ ত্যাগ করেছেন। আজ আমরা যারা স্বাধীনভাবে নিঃশ্বাস নিচ্ছি, তা ওই শহীদদের রক্তের বিনিময়ে।
‘হর ঘর তিরঙ্গা যাত্রা’র মাধ্যমে আমরা সেই শহীদদের ঋণ শোধ করার চেষ্টা করছি। আমাদের সরকারের লক্ষ্য একটাই – ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে বিশ্বগুরু হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। আর তার জন্য চাই প্রতিটি নাগরিকের মধ্যে দেশপ্রেম।
আমি পটাশপুরের প্রতিটি মানুষকে অনুরোধ করব ১৫ আগস্ট আপনার বাড়ির ছাদে অবশ্যই তিরঙ্গা তুলুন।”
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক প্রতিনিধি স্বপন দাস, কাঁথি সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্ব প্রণতোষ আচার্য্য, সুতপা চক্রবর্তী, ইন্দ্রজিৎ বারিক, সুভাষ ঘোড়াই, তাপস মাজী প্রমুখ।
কেন্দ্রীয় সরকারের “আজাদি কা অমৃত মহোৎসব”-এর অঙ্গ হিসেবে এই কর্মসূচি। উদ্দেশ্য একটাই – ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসে প্রতিটি বাড়ি, প্রতিটি দোকান, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা। তবে পটাশপুরের এই যাত্রা শুধু পতাকা লাগানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকল না। এটি পরিণত হলো ক্ষুদিরামের আদর্শকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম।