৬ আগস্ট, ঝাড়গ্রাম, http://muthokotha.in: দুর্নীতির বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজ্য সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির জলজ্যান্ত প্রমাণ মিলল বৃহস্পতিবার । সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে ২ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়লেন ঝাড়গ্রামের জামবনি ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার বিমল সাহা। রাজ্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখার এই অভিযানে গোটা রাজ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুরু হয়ে গেছে ঘুষখোরদের ছটফটানি।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, জামবনি BDO অফিসের একটি সরকারি প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য এক ঠিকাদারের কাছে ২ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করেন বিমল সাহা। টাকা না দিলে কাজ আটকে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে তাঁর অভিযোগ। বিষয়টি জানতে পেরেই তৎপর হয় রাজ্যের অ্যান্টি-করাপশন ইউনিট। ঠিকাদারের অভিযোগের ভিত্তিতে ছক কষে ফাঁদ পাতা হয়। বুধবার ছদ্মবেশে দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা জামবনি BDO অফিসে পৌঁছে যান। আটঘাট বেঁধেই তাঁরা অপারেশনে নেমে পড়েন।
ঘুষের টাকার প্রতিটি নোটে আগে থেকেই ফেনলফথালিন নামের বিশেষ রাসায়নিক লাগানো ছিল। বিমল সাহা টাকা হাতে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর হাতে রং লেগে যায়। প্রমাণ লোপাটের জন্য তিনি ওয়াশরুমে গিয়ে হাত ধুতে গেলে জলের রং গোলাপি হয়ে যায়। তখনই তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।
ঘটনার পরেই রাজ্য সরকারের তরফে কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “জামবনিতে ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছে। কোনও সরকারি অফিসে টাকা দিয়ে আর কোনও কাজ হবে না। ২ লক্ষ টাকা ঠিকাদারের কাছ থেকে নিচ্ছিল। রাজ্যের অ্যান্টি কোরাপশন ইউনিট পুরোদমে কাজ করছে।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “একটা গাড়ির কাছ থেকে টাকা তুললেও সাসপেন্ড করেছি। এবার অ্যারেস্ট করব। সরকারি কর্মচারী, পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আরও মজবুত হচ্ছে। আমার কাছে সরাসরি মেসেজ এলেই সাসপেন্ড, অ্যারেস্ট। টোল ফ্রি নম্বর চালু হচ্ছে। সব সিন্ডিকেট, বালি, কয়লা… যেখানে যা, টোল ফ্রি-তে জানাবেন। নবান্নে কন্ট্রোল রুম। ধরব, অ্যারেস্ট করব, সাসপেন্ড করব, বাড়ি পাঠাব।”
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমত গড়তে সোশাল মিডিয়ায় প্রচার শুরু করেছে দুর্নীতি দমন শাখা। তাদের বার্তা:
“দুর্নীতিকে না বলুন।কোনও সরকারি কর্মী ঘুষ চাইলে, ভয় দেখালে বা জোর করে টাকা আদায় করলে জানান।”
এর জন্য চালু হয়েছে টোল ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর: 9836233891 । যে কোনও নাগরিক এই নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানাতে পারবেন।
প্রশাসনের নিচু স্তর থেকে ওপর স্তর পর্যন্ত সব সরকারি কর্মীকে বোঝানো হল দুর্নীতি করলে রেহাই নেই। ফেনলফথালিন টেস্টের মতো পদ্ধতি ব্যবহার হওয়ায় আদালতে মামলা দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা কম। ঝাড়গ্রামের মতো জেলায় সরকারি প্রকল্পের কাজ বেশি। এখানে ঘুষের কারণে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগেন। তাই এই গ্রেফতারে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গ্রেফতার হওয়া বিমল সাহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে এই চক্রে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা। ধৃতকে আজ ঝাড়গ্রাম আদালতে তোলা হয়।
ঝাড়গ্রামের এই ঘটনা একদিকে যেমন দুর্নীতিবাজদের জন্য সতর্কবার্তা, তেমনই সাধারণ মানুষের জন্য ভরসা। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট অবস্থান এবং দুর্নীতি দমন শাখার তৎপরতা প্রমাণ করে সরকার এই ইস্যুতে আপস করতে নারাজ।
একটি ফোন, একটি অভিযোগই পারে একজন বিমল সাহাকে রুখে দিতে। তাই প্রশাসনের আবেদন — ঘুষ চাইলে ভয় নয়, 9836233891 নম্বরে ফোন করুন।
দুর্নীতিমুক্ত বাংলা গড়ার লড়াইয়ে জামবনির এই অভিযান একটা বড় ধাপ। এখন দেখার এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি জেলা থেকে রাজ্য, সর্বত্র কতটা কঠোরভাবে প্রয়োগ হয়।