টানা বৃষ্টিতে একপ্রকার জলবন্দি পটাশপুর, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বিজেপি, বিতরণ হল ত্রিপল, চলছে নালা পরিষ্কার
পটাশপুর, ২৯ জুলাই, পূর্ব মেদিনীপুর: প্রকৃতির রোষে বিপর্যস্ত পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর। টানা তিনদিনের মুষলধারে বৃষ্টিতে পটাশপুর ৩ মণ্ডলের খাড়, পটাশপুর ও শ্রীরামপুর অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন জলবন্দি। বাড়ির উঠোনে হাঁটু জল, ভেঙে গেছে কাঁচা রাস্তা, বন্ধ হয়েছে যাতায়াত। এই দুর্দিনে প্লাবিত মানুষের পাশে দাঁড়াল ভারতীয় জনতা পার্টি।
গত রবিবার থেকে টানা ৩ দিন ধরে ভারতীয় জনতা পার্টির পটাশপুর ৩ মণ্ডল সভাপতি ইন্দ্রজিৎ বারিক দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন প্লাবিত গ্রাম ঘুরে দেখেন। খাড়, পটাশপুর, শ্রীরামপুর — একাধিক অঞ্চলের বন্যা কবলিত গ্রামে যান তিনি।
জলমগ্ন বাড়িতে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। শোনেন তাঁদের কষ্টের কথা। টানা বৃষ্টির কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের অভাব, ছোট শিশু ও বৃদ্ধদের ভোগান্তি, পানীয় জলের সংকট — সবকিছুই তিনি খতিয়ে দেখেন।
স্থানীয়রা জানান, “বাড়ির মধ্যে জল ঢুকে গেছে। রান্না হচ্ছে না। বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। “সব কথা শোনার পর ইন্দ্রজিৎ বারিক এলাকাবাসীদের আশ্বস্ত করেন। বলেন, “এই দুর্যোগে আপনারা একা নন। দল হিসেবে আমরা আপনাদের পাশে আছি।” দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে জরুরি আপদকালীন পরিষেবা চালু করা হয়। পটাশপুরের লড়াকু বিধায়ক তপন মাইতির সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির হাতে ত্রিপল বিতরণ করা হয়।
যেসব বাড়ির চাল উড়ে গেছে বা ফুটো হয়ে গেছে, যাদের ঘরে জল ঢুকছে — সেই সব পরিবারকেই অগ্রাধিকার দিয়ে ত্রিপল তুলে দেওয়া হয়। যাতে বৃষ্টির জল আর ঘরের মধ্যে না ঢোকে, মানুষজন অন্তত শুকনো জায়গায় মাথা গুঁজতে পারেন।
ত্রিপল পেয়ে এক বৃদ্ধা বলেন, “ছেলেটা না এলে এই বৃষ্টিতে ভিজেই মরতাম বাবা।” শুধু ত্রাণ নয়, জল নামানোর কাজেও হাত লাগিয়েছে বিজেপি। বিভিন্ন এলাকায় JCB মেশিন নামিয়ে নালা ও জলনিকাশি নালা পরিষ্কারের কাজ শুরু করা হয়েছে।
দিনের পর দিন বৃষ্টির জল জমে থাকায় মশার উপদ্রব ও রোগের আশঙ্কা বাড়ছিল। তাই দ্রুত জল বের করার জন্য বড় নালাগুলো কাটা ও পরিষ্কার করা হচ্ছে। এলাকার যুবকরাও এই কাজে স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন।
দলীয় নেতৃত্বের দাবি, এতে জমা জল দ্রুত নদী বা খালে চলে যাবে এবং মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন।
পরিদর্শনের শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মণ্ডল সভাপতি ইন্দ্রজিৎ বারিক বলেন, “পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়। মানুষ এখনই সাহায্য চাইছে। প্রশাসনের তৎপরতা আরও বাড়ানো দরকার। ব্লক ও পঞ্চায়েত থেকে দ্রুত ত্রাণ ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে আর্থিক সাহায্য ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।”
এই দুর্যোগের মাঝেই উঠে এসেছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কয়েকমাস ধরে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পটাশপুর ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সহ পঞ্চায়েত সমিতির একাধিক সদস্য-সদস্যা পদত্যাগ করেছেন।
বিজেপির অভিযোগ, এর ফলে এলাকার উন্নয়নের কাজ একপ্রকার স্তব্ধ হয়ে আছে। রাস্তা, ব্রিজ, নালা সংস্কারের কোনও কাজ হচ্ছে না।
স্থানীয়দের কথায়, “পঞ্চায়েত সমিতি না থাকায় বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও ত্রাণের কাজেও বড় সমস্যা হচ্ছে। ফাইল আটকে যাচ্ছে। কাকে বলব বুঝতে পারছি না।”
মানুষের পাশে বিজেপি — দাবি নেতৃত্বের
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, প্রশাসনিক শূন্যতা থাকলেও দলীয় কর্মীরা মাঠে নেমেছেন। “সরকার না থাকলে আমরা আছি” — এই বার্তা নিয়েই তাঁরা কাজ করছেন।
ইন্দ্রজিৎ বারিক জানান, “যতদিন না পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়, ততদিন আমাদের এই সহায়তা জারি থাকবে। প্রয়োজনে আরও ত্রাণ শিবির করা হবে।”
এখনও আকাশের মুখ ভার। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে আরও বৃষ্টি হতে পারে। তাই আতঙ্ক কাটেনি।
টানা বৃষ্টিতে স্কুল বন্ধ, বাজার হাটে যাওয়া যাচ্ছে না, ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চাষি থেকে দিনমজুর — সকলেই বিপাকে।
পটাশপুরবাসী এখন শুধু একটাই কামনা করছেন দ্রুত জল নামুক, ফিরে আসুক স্বাভাবিক জনজীবন।
প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি একসঙ্গে হাত না লাগালে এই বিপর্যয় থেকে উদ্ধার পাওয়া কঠিন। আপাতত ত্রিপল আর JCB-র শব্দই পটাশপুরবাসীর কাছে একটু ভরসা।