২০ জুলাই, কলকাতা, muthokotha.in : নিউটাউনের এক আবাসনে রবিবার গভীর রাতে চণ্ডিবেড়িয়ার একটি ফ্ল্যাট থেকে ২৫ এক যুবতীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেছে নিউটাউন থানার পুলিশ। সেই ফ্ল্যাটেই রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে তাঁরই লিভ-ইন সঙ্গীকে। যুবক সঙ্গীর হাতের শিরা কাটা ছিল। তিনি আপাতত জীবিত, তাঁর চিকিৎসা চলছে হাসপাতালে।
যুবতী তৃষা সাহার বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর এলাকায়। তিনি পেশায় ছিলেন একজন নেটপ্রভাবী।আহত সৌভিক রায়ের বাড়ি নৈহাটিতে। সৌভিক ও তৃষা আসলে লিভ-ইন পার্টনার হিসেবেই এই ফ্ল্যাটে থাকতেন। মাস চারেক আগে থেকেই ওরা নিউটাউনের চণ্ডিবেড়িয়ার এই আবাসনে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার রাতে পুলিশ ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকে এবং একটি ঘর থেকে তৃষার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় ও অন্য একটি ঘর থেকে মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় সৌভিককে উদ্ধার করা হয়। সৌভিকের হাতের শিরা কাটা অবস্থায় ছিল। সেখান থেকেই প্রচুর পরিমাণে রক্তপাত হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপড়েনের জেরেই এই ঘটনা ঘটতে পারে। এমনও হতে পারে “তৃষাকে মারধরের পর ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তারপর সৌভিক আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন । তবে সবটাই স্থানীয়দের অনুমান। পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে, তদন্তের পরে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।
তবে তৃষার শরীরে বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সেগুলি কীভাবে হল, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তৃষার পায়ের দিকে রক্তের দাগও রয়েছে। সম্ভবত হাতকাটা অবস্থায় শেষবারের মতো ঝুলন্ত তৃষাকে সৌভিক জড়িয়ে ধরেছিলেন। তবে সবটাই অনুমান।
এদিকে প্রতিবেশীদের দাবি, এই ৪ মাসে তাঁদের মধ্যে কখনও ঝগড়া বা চিৎকার তাঁরা শুনতে পাননি। এক প্রৌঢ় বলেন, “দু’জনের ব্যবহারই খুব ভালোই ছিল। ঠিক কী করে যে এসব হল বুঝতে পারছি না।”