হায়দ্রাবাদ, ২০ জুলাই , muthokotha.in : শহর জুড়ে ছড়িয়ে পড়লো চাঞ্চল্যকর খবর। এক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলো ধোঁয়াশা। অভিযোগ, মন্দিরে ঢুকে দেবী মূর্তি নিয়ে পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেন তরুণী। দীর্ঘক্ষণ ধরে তল্লাশির চালানোর পর তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার হলেও মূর্তির কোনো খোঁজ এখনও মেলেনি। কী কারণে এইরকম ঘটনা ঘটেছে , তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে পুলিশ প্রশাসন সকলেই। সবাইকে অবাক করেছে এই রোমহর্ষক ঘটনা।
হায়দ্রাবাদের উপকণ্ঠে অবস্থিত দেবী আম্মাভারু মন্দিরে এই ঘটনা ঘটেছে, এই মন্দিরে নিয়মিত পূজা দিতে যেতেন ওই তরুণী। সূত্রের খবর, মৃতা তরুণীর নাম তেজস্বিনী। পেশায় তিনি একটি নামী তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কর্মরত ছিলেন। এই মন্দিরটি তাঁর বাড়ির কাছেই অবস্থিত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকদিন আগে ভোরের দিকে তেজস্বিনী মন্দিরে প্রবেশ করেন। মন্দিরের ভিতরে তাঁর আচরণ অস্বাভাবিক ছিল বলে জানিয়েছেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী। অভিযোগ, তিনি গর্ভগৃহ থেকে নগ্ন অবস্থায় দেবী মূর্তি নিয়ে বেরিয়ে আসেন এবং সোজা মন্দিরের সামনের পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
মন্দিরের পুরোহিত ও স্থানীয়রা সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসেন, কিন্তু তেজস্বিনীকে তাঁরা কেউ ধরতে পারেননি। ততক্ষণে তেজস্বিনী পুকুরের জলে তলিয়ে যান। লোকজনের চোখ এড়িয়ে কীভাবে তিনি মূর্তিটি নিয়ে যেতে পারলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। মন্দিরের সি সি টি ভিতে তাঁকে সম্পূর্ণ অনাবৃতা অবস্থায় দেখা গেছে।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান স্থানীয় থানার পুলিশ, দমকল ও ডুবুরির দল। প্রায় ৪ ঘন্টা ধরে পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে অবশেষে তেজস্বিনীর দেহ উদ্ধার করা হয়।
তবে সবচেয়ে বড় রহস্য হল, দেবী মূর্তিটি এখনও পাওয়া যায়নি। পুকুরে বারবার তল্লাশি চালিয়েও মূর্তির হদিস কিন্তু মেলেনি। মূর্তিটি গেল কোথায়? রহস্যময় নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া মূর্তিকে ঘিরে কথার শেষ নেই এলাকা জুড়ে।
তেজস্বিনী শহরের একটি নামী IT কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। তিনি একজন ইঞ্জিনিয়ার। সহকর্মী ও পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, তিনি অত্যন্ত মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছিলেন। আচমকা কেন তিনি এই পদক্ষেপ নিলেন, তা কেউ বুঝতে পারছেন না।
পরিবার অবশ্য জানিয়েছে গত কয়েকদিন ধরে তেজস্বিনী কিছুটা মানসিক চাপে ছিলেন। তবে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন, এমনটা কেউ ভাবতেই পারেননি। প্রতিবেশীরা জানান, তিনি নিয়মিত এই মন্দিরে পুজো দিতে যেতেন।
প্রাথমিক তদন্তে অবশ্য পুলিশের অনুমান, এটি আত্মহত্যার ঘটনা। তবে কী কারণে তেজস্বিনী নগ্ন অবস্থায় মন্দির থেকে মূর্তি নিয়ে পুকুরে ঝাঁপ দিলেন, সেই উত্তর এখনও অধরা।
তেজস্বিনী কোনো মানসিক অবসাদের মধ্যে ছিলেন কিনা, তা জানতে তাঁর ফোন, ল্যাপটপ ও সহকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারী অফিসাররা। মন্দির এবং পুকুর সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখা হচ্ছে। মূর্তিটি কোথায় গেল, তা বোঝার চেষ্টা চলছে।এই ঘটনার সময় যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের বয়ানও রেকর্ড করা হচ্ছে।
অবশ্য পুলিশের এক পদস্থ কর্তা বলেন, “এই ঘটনা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। মূর্তি উদ্ধারের চেষ্টাও চলছে।”
এই ঘটনার পর এলাকার মন্দিরগুলিতে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভক্তরা বলছেন, “একজন মানুষ কীভাবে মন্দির থেকে মূর্তি নিয়ে চলে গেল, আর কেউ টেরও পেল না? নিরাপত্তা কোথায়?”
অনেকে আবার অতিপ্রাকৃত কারণের দিকেও ইঙ্গিত করছেন। তাঁদের মতে, দেবীর অভিশাপের কারণেই এমনটা হয়েছে। তবে পুলিশ এই ধরনের জল্পনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে মানসিক চাপ ও অবসাদের কারণে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ বাড়ছে। IT সেক্টরে কাজের চাপ, টার্গেট, ডেডলাইন – এসবের কারণে অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন। তেজস্বিনীর ক্ষেত্রেও তেমন কিছু হয়েছিল কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হবে।
একটি উজ্জ্বল কেরিয়ার, একটি পরিবার, আর একটি মন্দির – সবকিছু জড়িয়ে এই ঘটনা এখন বড় রহস্যময় আবহাওয়ার সৃষ্টি করেছে। মূর্তি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এই রহস্যের সমাধান হবে না বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পরেই আসল কারণ স্পষ্ট হবে। ততদিন পর্যন্ত হায়দ্রাবাদের এই মন্দির চত্বরে কৌতূহল ও আতঙ্ক দুই-ই থাকবে।
ইতিমধ্যেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন করা হয়েছে, এই ঘটনা নিয়ে কেউ যেন গুজব না ছড়ায়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধরবার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।