দিন কয়েকের ব্যবধানে কেঁপে উঠল মহারাষ্ট্র, পরপর সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত ৬, আহত বহু
২০ জুলাই, Muthokotha.in: মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধান। এই ব্যবধানেই পরপর ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় রক্তাক্ত হল মহারাষ্ট্র। এক্সপ্রেসওয়ে থেকে শহরের রাস্তা, স্কুলবাস থেকে যাত্রীবাহী বাস – কোথাও যেন নিরাপত্তা নেই। সর্বশেষ ওয়ার্ধার সমৃদ্ধি এক্সপ্রেসওয়ের দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৫ জনের। এই নিয়ে চলতি মাসে রাজ্যে বড় দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৬ জনে। আহত হয়েছেন ২০ জনের বেশি।
শনিবার গভীর রাতে মহারাষ্ট্রের ওয়ার্ধা জেলার পুলগাঁও থানা এলাকায় সমৃদ্ধি এক্সপ্রেসওয়েতে ঘটে যায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দ্রুতগতিতে আসা একটি ট্রাক পিছন থেকে একটি যাত্রীবাহী গাড়িতে সজোরে ধাক্কা মারে।
ধাক্কার ফলে গাড়িটি একেবারে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় গাড়িতে থাকা চালক-সহ মোট ৪ জনের। ট্রাকের চালকও গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। ট্রাকের খালাসি গুরুতর জখম হয়েছেন। তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
তবে এই দুর্ঘটনায় মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১ জন জখম। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই হাইওয়ে পুলিশ এবং পুলগাঁও থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশ ও NDRF-এর দল যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালায়। দুমড়ে যাওয়া গাড়ি থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পুলগাঁও গ্রামীণ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার জেরে প্রায় ঘন্টা দুয়েক সমৃদ্ধি এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছিল । পরে পুলিশের উদ্যোগে যান চলাচল আবার স্বাভাবিক করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ট্রাক চালক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন অথবা নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন। তবে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃতদের পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি।
ওয়ার্ধার ঘটনার দিনকয়েক আগেই মুম্বইয়ে ঘটেছিল আরও কয়েকটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা। মুম্বইয়ের আন্ধেরি পশ্চিম এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বেসরকারি বাস পরপর ১৪টি গাড়িতে ধাক্কা মেরেছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আচমকাই বাসটি দ্রুতগতিতে এসে প্রথমে একটি অটোকে ধাক্কা দেয়। তারপর একের পর এক গাড়ি, বাইক ও অটোকে পিষে দেয়। দুর্ঘটনায় প্রায় ১২-১৩টি অটো সহ মোট ১৪টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনায় অন্তত ২-৩ জন গুরুতর আহত হন। জখমদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
দুর্ঘটনার পর বাসচালককে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে চালক জানান, “ব্রেক ফেল করে গিয়েছিল। আমি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি।” RTO-এর তরফে বাসটির ফিটনেস সার্টিফিকেট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় শহরের যান চলাচল প্রায় ১ ঘন্টা স্তব্ধ ছিল।
তারও কয়েকদিন আগে মহারাষ্ট্রের আহিল্যানগরে ঘটে আরেকটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। স্কুলে যাওয়ার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে উল্টে যায় ৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে যাওয়া একটি স্কুলবাস।
সকালের দিকে ঘটনাটি ঘটে। বাসটি হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে রাস্তার একপাশে কাত হয়ে পড়ে যায়। বাসের ভিতরে থাকা ছাত্র-ছাত্রীরা ছিটকে পড়ে। ঘটনায় ১৫ জন ছাত্র জখম হয়। স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। খবর পেয়ে পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্স এসে আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করে। বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বাস চালকের বিরুদ্ধে বেপরোয়া গাড়ি চালনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
এরও আগে মহারাষ্ট্রের চেম্বুরে ঘটে যায় আরও একটি দুর্ঘটনা। দুপুর ২টো ৫৮ মিনিট নাগাদ চেম্বুরের হেরিটেজ প্রাইডের কাছে ১ নম্বর রোডে একটি বেসরকারি স্কুলবাসের উপর উপড়ে পড়ে একটি বিশাল বটগাছ।
সেই সময় বাসটিতে বেশ কয়েকজন ছাত্র ছিল। গাছের বিশাল অংশ বাসের ছাদের উপর পড়তেই বাসটি দুমড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ১ বছরের এক স্কুলছাত্রের। আহত হয় আরও ৪ জন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় BMC এবং মুম্বই দমকলের উদ্ধারকারী দল। প্রায় ১ ঘন্টার চেষ্টায় গাছ কেটে বাস থেকে ছাত্রদের উদ্ধার করা হয়।
এদিনের দুর্ঘটনার জেরে মহারাষ্ট্র জুড়ে শোকের ছায়া। প্রশ্ন উঠছে সড়ক সুরক্ষা নিয়ে। সমৃদ্ধি এক্সপ্রেসওয়ের মতো আধুনিক রাস্তাতেও কেন এমন দুর্ঘটনা, তা নিয়ে তদন্তের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।
মুম্বই পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ব্রেক ফেল ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোর বিরুদ্ধে কড়া অভিযান চলবে। স্কুলবাসগুলির ফিটনেস ও চালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিয়েছে পরিবহন দফতর।
অন্যদিকে, চেম্বুরের ঘটনার পর BMC শহরের রাস্তার পাশের পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছ ছাঁটাইয়ের কাজ শুরু করেছে।