বারুইপুরের সূর্যপুর কাণ্ড: মৃত নাবালিকার বাবাকে কারা দফতরে চাকরি, আর্থিক সাহায্যও দিল রাজ্য
নিজস্ব প্রতিনিধি,১৫ জুলাই,কলকাতা: বারুইপুরের সূর্যপুরে ১১ বছরের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রীর গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়াল রাজ্য সরকার। মৃত ছাত্রীর বাবাকে কারা দফতরে চাকরি এবং পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক ও ঘোষণা
রবিবার মৃতদেহ উদ্ধারের পর বারুইপুর পুলিশ সুপারের দফতরে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে নিহত ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ শোনার পাশাপাশি পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক নির্দেশ দেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে এই মামলার কাস্টডি, ট্রায়াল, কনভিকশন এবং এক্সিকিউশন – সমস্ত প্রক্রিয়া তাঁর নজরদারিতেই হবে। তিনি বলেন, “এই মামলায় একটি দৃষ্টান্তমূলক নজির তৈরি করা হবে।”
পরিবারের জন্য কী ব্যবস্থা?
- সরকারি চাকরি: মৃত ছাত্রীর বাবাকে রাজ্য সরকারের কারা দফতরে নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, মানসিক অবস্থা স্বাভাবিক হলে তিনি কাজে যোগ দেবেন।
- আর্থিক সাহায্য: পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে কত টাকা দেওয়া হয়েছে তা মুখ্যমন্ত্রী বিস্তারিত বলেননি। তাঁর কথায়, “সরকার কীভাবে পাশে দাঁড়িয়েছে, প্রয়োজন হলে পরিবারই তা জানাবে।”
- নিরাপত্তা বৃদ্ধি: পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে সূর্যপুরে একটি পূর্ণাঙ্গ পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন হয়েছে। গোটা এলাকাজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- স্মৃতি রক্ষা: নিহত ছাত্রীর স্মৃতিতে তাঁর স্কুলে একটি লাইব্রেরি নির্মাণের আবেদন জানানো হয়েছে।
তদন্তের অগ্রগতি
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৪ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
- ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণের সময় এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে প্রভাস মণ্ডলের।
- বাকি ৩ অভিযুক্ত – আনন্দ সরদার, দিবাকর মণ্ডল ও কবীর মোল্লাকে নিয়ে SIT ঘটনার পুনর্নির্মাণ করবে। পুলিশের মতে, তদন্তের স্বার্থে এই পুনর্নির্মাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই নৃশংস ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া। প্রশাসন দ্রুত বিচার এবং পরিবারকে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।