নিজস্ব প্রতিনিধি, ১৫ জুলাই, নয়াদিল্লি: শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশন ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। দীর্ঘ ১৯ দিন ধরে তিনি দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতির অভিযোগ তুলে এবার দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন এক আইনজীবী।
সাম্প্রতিক পরীক্ষার অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ১৮ দিন আগে অনশন শুরু করেন ওয়াংচুক। তাঁর এই আন্দোলনে সামিল হয়েছেন বহু ছাত্র-যুব এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা।
আদালতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় দাবি করা হয়েছে:
- অনশনের জেরে ওয়াংচুকের ৮.৫ কেজি ওজন কমে গিয়েছে।
- চিকিৎসকদের মতে, অবিলম্বে চিকিৎসা না হলে তাঁর জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে।
- তাই তাঁকে দ্রুত সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজন হলে চিকিৎসাগত হস্তক্ষেপ বা ফোর্স-ফিডিং-এর ব্যবস্থা করার আর্জি জানানো হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জীবনের অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারকে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। সূত্রের খবর, দিল্লি হাইকোর্ট মামলার দ্রুত শুনানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।
এই আবহে সোনম ওয়াংচুকের পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, “তৃণমূল প্রধান মমতা দিদি সোনম স্যারের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিতে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি স্যারকে মনোবল অটুট রাখার আহ্বান জানান এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচারের দাবিতে CJP-র আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।”
ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যেই তাঁর অনশন প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত তিনি অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন।
আদালত কী নির্দেশ দেয় এবং ওয়াংচুক অনশন ভাঙেন কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক ও চিকিৎসক মহলের।