নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : চাকরি হারিয়ে মানসিক অবসাদ। তারপর শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ। টানা ৩ দিন তল্লাশির পর সোমবার বাগজোলা খাল থেকে উদ্ধার হল একটি দেহ। দেহটি কেষ্টপুর রবীন্দ্রপল্লির বাসিন্দা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার অরিন্দম সেনের কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয় পুলিশ।
শেষবার দেখা গিয়েছিল বাগজোলা খালের ধারে
পরিবার সূত্রে খবর, শনিবার বিকেলে বাড়ি থেকে একটি লাল রঙের ব্যাগ ও একটি চায়ের ফ্লাস্ক নিয়ে বেরিয়েছিলেন অরিন্দম। এরপর থেকেই তাঁর ফোন বন্ধ। দীর্ঘক্ষণ বাড়ি না ফেরায় চিন্তিত পরিবার খোঁজাখুঁজি শুরু করে।
স্থানীয়দের দাবি, কেষ্টপুরের বাগজোলা খালের ধারে শেষবার তাঁকে দেখা গিয়েছিল। অনুমান করা হয় তিনি খালে ঝাঁপ দিয়েছেন। খবর পেয়েই শনিবার রাত থেকে বোট নামিয়ে তল্লাশি শুরু করে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর ও বাগুইআটি থানার পুলিশ।
মঙ্গলবার সকালে যাত্রাগাছি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা খালের জলে একটি দেহ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে।
তদন্তকারীদের অনুমান, স্রোতের টানে কেষ্টপুরের বাগজোলা খাল থেকে ভেসে দেহটি যাত্রাগাছি পর্যন্ত পৌঁছেছে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের সদস্যদের ডেকে দেহ শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।
চাকরি যাওয়ার পর থেকেই অবসাদে ছিলেন।
পরিবারের দাবি, কয়েক মাস আগেই চাকরি চলে যায় অরিন্দমের। এরপর থেকেই তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। সেই কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে অনুমান।
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া। ডিজিটাল প্রফেশনাল অ্যান্ড অ্যালায়েড ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন DPAWU-এর পক্ষ থেকে ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আইটি সেক্টরে কর্মহীনতা ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সরকারের হস্তক্ষেপের কথাও বলেছেন তাঁরা।
আপাতত ময়নাতদন্ত ও শনাক্তকরণের রিপোর্টের অপেক্ষায় পরিবার ও পুলিশ দুই পক্ষই।