নিজস্ব প্রতিবেদন, চন্দনগর / নয়াদিল্লি: রাশিয়ায় থাকা নাবালক পুত্রকে ফিরিয়ে আনতে মরিয়া হুগলির চন্দননগরের বাসিন্দা সৈকত বসু। কেন্দ্রীয় সরকারও এই বিষয়ে কূটনৈতিক স্তরে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। মামলাটি এখন সুপ্রিম কোর্টের সরাসরি নজরদারিতে রয়েছে।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে একটি বিস্তারিত স্ট্যাটাস রিপোর্ট পেশ করা হয়।
রিপোর্টে জানানো হয়, মস্কোতে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের আধিকারিকরা রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছেন। মূল লক্ষ্য একটাই – আইনি প্রক্রিয়া মেনে দ্রুত স্ট্যাভো বসুকে ভারতে তার বাবার কাছে ফিরিয়ে আনা।
সরকারি সূত্রের খবর, আদালতের নির্দেশ মেনেই এই উদ্যোগ। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই মঙ্গলবার মস্কোয় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করতে পারেন। সেখানে তিনি রাশিয়া সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ চেয়ে স্ট্যাভোকে ফেরানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার আর্জি জানাবেন।
চন্দননগরের বোসপাড়ার বাসিন্দা সৈকত বসু পেশায় একটি বেসরকারি সংস্থার উচ্চপদস্থ আধিকারিক। আগে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প মন্ত্রকের সিনিয়র উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন। কাজের সূত্রেই তিনি চিনে গিয়েছিলেন।
সেখানেই আলাপ হয় রাশিয়ার নাগরিক ভিক্টোরিয়া ঝিগালিনার সঙ্গে। ২০১৭ সালে দুজনে বিয়ে করেন। ২০১৯ সালে তাঁরা ভারতে ফিরে এসে দিল্লিতে থাকতে শুরু করেন। ২০২০ সালে তাঁদের কোল আলো করে আসে ছেলে স্ট্যাভো।
সৈকতের বাবা সমীর বসু ভারতীয় নৌসেনার প্রাক্তন কর্তা। বসু পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর তাঁরা জানতে পারেন ভিক্টোরিয়ার বাবা রাশিয়ার একটি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ভিক্টোরিয়া কলকাতায় এলে বারবার ভারতীয় সেনার পূর্বাঞ্চলীয় সদর দপ্তরে যাওয়ার জন্য চাপ দিতেন বলেও অভিযোগ তোলেন তাঁরা।
ব্যক্তিগত কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। জল গড়ায় আদালতে। এরপর আদালতের নির্দেশ ছিল, সন্তান স্ট্যাভো বাবা-মা উভয়ের কাছেই যৌথভাবে থাকবে। কিন্তু গত বছরের ৭ জুলাই আদালতের নির্দেশ অমান্য করে স্ট্যাভোকে সঙ্গে নিয়ে ভারত ছেড়ে রাশিয়ায় পালিয়ে যান ভিক্টোরিয়া।
এরপরই দিশেহারা হয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন সৈকত ও তাঁর পরিবার। কেন্দ্রীয় সরকারও আদালতে জানায়, শিশুটিকে বেআইনিভাবে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
মামলাটি এখন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। আদালত কেন্দ্রকে নিয়মিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
ডিপ্লোম্যাটিক চ্যানেলের মাধ্যমে রাশিয়া সরকারের সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ রাখছে ভারত।
শিশু ও ভিক্টোরিয়ার খোঁজে ইন্টারপোল ইতিমধ্যেই “ব্লু-কর্নার নোটিস” জারি করেছে।
বসু পরিবারের একমাত্র দাবি, আইনি ও কূটনৈতিক পথে যত দ্রুত সম্ভব স্ট্যাভোকে দেশে ফিরিয়ে আনা হোক। সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানিতেই এই মামলায় নতুন কোনো অগ্রগতি আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।