নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, ১৪ জুলাই : পুজোর আগেই মুখোমুখি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিকাশ ভবনে রাজ্য শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন রাজ্যের পার্শ্ব শিক্ষকরা। বৈঠক “অত্যন্ত সদর্থক” হয়েছে বলেই জানিয়েছেন পার্শ্ব শিক্ষক ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক ভগীরথ ঘোষ।
মঙ্গলবারের এই বৈঠকে রাজ্যের প্রায় ৪১ হাজার পার্শ্ব শিক্ষকের ভবিষ্যৎ নিয়ে ৪টি মূল দাবি তুলে ধরা হয়।
বছরের পর বছর একই স্কুলে পড়িয়ে যাচ্ছেন পার্শ্ব শিক্ষিকারা, বিয়ের পর স্কুল থেকে সেই দূরত্ব বহুগুণ বেড়েছে, অনেকক্ষেত্রে জেলাও পরিবর্তিত হয়েছে। শিক্ষিকাদের এই সমস্যার সমাধান চেয়েছেন তাঁরা।
ভগীরথ ঘোষের কথায়, “দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে শিক্ষকতা করেও আজও ২৩ হাজার টাকা বেতনের মুখ দেখলাম না।
তবে বর্তমান সরকার তাঁদের সদিচ্ছা দেখিয়েছেন। আমরা আশা করছি এই সরকারই আমাদের যোগ্য সম্মান দেবে।”
বর্তমানে প্রাথমিকে ১০ হাজার ও হাইস্কুলে ১৩ হাজার টাকা বেতন পান তাঁরা। এই বাজেটে ৫০০০ টাকা বৃদ্ধি ঘোষণা হলেও তা দিয়ে সংসার চলে না। তাই অবিলম্বে একটি স্থায়ী ও যুক্তিসঙ্গত বেতন কাঠামো তৈরির দাবি জানানো হয়, যেখানে ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি হবে।
ঘোষিত ৫০০০ টাকা বেতন বৃদ্ধি কবে হাতে পাবেন সেই প্রশ্ন রাখেন শিক্ষকরা। বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, বর্ধিত ৫০০০ টাকা অবিলম্বে দেওয়া হবে।
কর্মরত অবস্থায় মৃত পার্শ্ব শিক্ষকদের অনেক পরিবার গ্র্যাচুয়িটি পাচ্ছে না। এই সমস্যার একটি তালিকা শিক্ষামন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছে ঐক্য মঞ্চ। দাবি, এই পরিবারগুলির জন্য এককালীন আর্থিক সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
ভগীরথ ঘোষ জানান, “শিক্ষামন্ত্রী আমাদের প্রতিটি কথা মন দিয়ে শুনেছেন। তিনি বলেছেন বিষয়গুলি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর, এই প্রস্তাবগুলি খতিয়ে দেখে আগামী ক্যাবিনেট বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
পুজোর আগে এই আশ্বাস পার্শ্ব শিক্ষক মহলে নতুন আশা জাগিয়েছে। তবে আশ্বাস নয়, প্রজ্ঞাপন চাইছেন ৪১ হাজার পার্শ্ব শিক্ষক।