“আমি নায়ক নই” – তবুও ১৮ দিন অনশনে দেশের গর্ব সোনম ওয়াংচুক: লাদাখের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে আমরণ লড়াই
Muthokotha.in, নিজস্ব প্রতিনিধি, ১৪ জুলাই, নয়াদিল্লি : স্কুল বানিয়ে হাজার হাজার ছাত্রের জীবন বদলেছেন। বরফ গলিয়ে মরুভূমিতে চাষ করিয়েছেন। আজ সেই মানুষটাই ভগ্ন শরীর নিয়ে রাস্তায়। ছাত্রছাত্রীদের ন্যায়বিচারের দাবিতে ১৮দিন ধরে আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন লাদাখের শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক।
ওজন কমেছে ৮ কেজির বেশি। ডাক্তাররা বারবার সতর্ক করছেন। তবুও তাঁর এক কথা: “আমি নায়ক নই, একজন সাধারণ নাগরিক মাত্র।”
কেন এই অনশন? লাদাখের ৩ দফা দাবি:-–
সোনম ওয়াংচুকের লড়াই ব্যক্তিগত নয়। এটা লাদাখের আগামী প্রজন্মের লড়াই।
১. ষষ্ঠ তফসিলের দাবি: লাদাখকে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় আনা। যাতে স্থানীয় জমি, সংস্কৃতি ও চাকরির অধিকার সুরক্ষিত থাকে।
২. স্থানীয়দের চাকরির নিশ্চয়তা : কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হওয়ার পর বাইরের লোকের চাকরির দখল বাড়ছে। লাদাখের ছেলেমেয়েদের জন্য সংরক্ষণ চান তিনি।
৩. পরিবেশ রক্ষা : হিমালয়ের ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করে উন্নয়ন। নির্বিচারে শিল্প ও খনন বন্ধের দাবি।
তাঁর বার্তা স্পষ্ট – “এটা আগামী প্রজন্মের অধিকারের লড়াই।”
তাঁর দেশের গর্বের কাজের নিদর্শন:–
যে মানুষটা আজ অনশনে, তাঁর ঝুলিতে রয়েছে কয়েক দশকের নীরব কাজ।
১. SECMOL – “ব্যর্থ” ছাত্রদের জন্য স্কুল:–
১৯৮৮ সালে তিনি তৈরি করেন _Students’ Educational and Cultural Movement of Ladakh_। সরকারি স্কুলে ৯৫% ছাত্র ফেল করত। সোনমের স্কুল সেই ছাত্রদেরই ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার বানিয়েছে। _3 Idiots_ সিনেমার “ফুংসুক ওয়াংড়ু” চরিত্রটি তাঁর থেকেই অনুপ্রাণিত।
২. Ice Stupa – মরুভূমিতে কৃত্রিম হিমবাহ:–
লাদাখে জলের তীব্র সঙ্কট। শীতের বরফ গলে নষ্ট হয়। সোনম প্রযুক্তি এনে শীতেই “বরফের স্তূপ” বানান। গ্রীষ্মে সেই বরফ গলে চাষের জল দেয়। আজ লাদাখের ২০টার বেশি গ্রামে এই Ice Stupa চাষ বাঁচাচ্ছে।
৩. Solar Heated Mud House:–
লাদাখে শীতে -৩০ ডিগ্রি। বিদ্যুৎ নেই। সোনম সৌরশক্তিতে চলা মাটির বাড়ি বানিয়েছেন যা বিনা হিটারে গরম থাকে। কম খরচে টেকসই প্রযুক্তি।
৪. Ladakh Marathon ও Himotthan:–
পর্যটনের মাধ্যমে স্থানীয় যুবকদের রোজগার। পরিবেশ বাঁচিয়ে উন্নয়নের মডেল তৈরি।
১৮ দিন পরেও অনড় কেন?:—
সোশাল মিডিয়ায় #SonamWangchuk #SaveLadakh #StandWithSonam ট্রেন্ড করছে। দেশ-বিদেশের মানুষ পাশে দাঁড়াচ্ছেন।
কিন্তু প্রশ্ন একটাই – একজন মানুষকে ১৮ দিন না খেয়ে থাকতে হচ্ছে কেন? কেন সরকারের সঙ্গে টেবিলে বসে আলোচনায় সমাধান হচ্ছে না? সোনম নিজেই বলেছেন, “আমরা সরকারের বিরুদ্ধে নই। আমরা চাই আমাদের বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হোক।”
যে মানুষটা সারা জীবন দেশের সীমান্তে “শিক্ষার আলো” জ্বেলেছেন, আজ তাঁকেই শরীরের তোয়াক্কা না করে অনশনে বসতে হচ্ছে। দেশের গর্ব যদি অনশনে বসেন, তাহলে লজ্জা সত্যিই আমাদের সবার।
আপাতত লাদাখ থেকে দিল্লি – সবার নজর সোনম ওয়াংচুকের শরীর এবং সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।