নিজস্ব প্রতিনিধি, ১৪ জুলাই, কলকাতা : শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে নবান্ন থেকে একসাথে ২টি বড় সিদ্ধান্তের ঘোষণা। একদিকে বেসরকারি স্কুল-কলেজের লাগামহীন ফি বৃদ্ধি রুখতে কড়া পরিদর্শন, অন্যদিকে স্কুল পরিচালনার মূল দায়িত্ব তুলে দেওয়া হচ্ছে অভিভাবকদের হাতে।
সরকারের প্রথম পদক্ষেপ ,বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কড়া নজরদারি রাখা। কারণ এই রাজ্যে বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় – সব জায়গাতেই ফি বৃদ্ধির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এই “বাণিজ্য” বন্ধ করতেই সরকার কড়া অবস্থান নিয়েছে।
এই বিষয়ে সরকারের রোডম্যাপ প্রস্তুত। রাজ্যে NOC পাওয়া প্রতিটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারি দল গিয়ে পরিদর্শন করবে। ফি-র কাঠামো আদৌ “সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে” আছে কিনা, সেই হিসাবও খতিয়ে দেখা হবে। সরকারি সব নিয়ম মানলে তবেই পরের বছরের জন্য পড়ানোর ছাড়পত্র মিলবে ।
মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা একেবারে স্পষ্ট – “শিক্ষাকে আমরা কোনওভাবেই পণ্য হতে দেব না।”
পাশাপাশি পড়ুয়াদের জন্য সরকার আর্থিক ভর্তুকি দেওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছে। উদ্দেশ্য, স্কুলে যাতে উচ্চমানের ও পুষ্টিকর মিড-ডে মিল নিশ্চিত করা যায়।
সরকারের দ্বিতীয় পদক্ষেপ, নতুন শিক্ষাবিল লাগু করা, সেই বিল অনুযায়ী স্কুলগুলোর ক্ষমতা যাবে অভিভাবকদের হাতে। শুধু ফি নয়, স্কুল পরিচালনার ধরনেও আমূল বদল আনতে চলেছে রাজ্য।
এই বিলের মূল কথা হলো — স্কুলগুলি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা, ছাত্রস্বার্থ অগ্রাধিকার পাওয়া। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিস্বার্থ নিয়ে বর্তমানে বেশিরভাগ স্কুলের পরিচালন সমিতির মাথায় থাকেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা। নতুন আইনে সেই জায়গায় আসবেন সরাসরি পড়ুয়াদের অভিভাবকরা।
এই মডেলটি নেওয়া হয়েছে দেশের ২১টি বিজেপি ও NDA শাসিত রাজ্য থেকে। শিক্ষামন্ত্রী ও প্রধান সচিবকে আগামী বিধানসভা অধিবেশনেই এই সংক্রান্ত বিল আনার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এর ফলে স্কুলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনীতির বদলে “পড়ুয়ার স্বার্থ” প্রাধান্য পাবে। স্বচ্ছতা বাড়বে, জবাবদিহিতা বাড়বে। শিক্ষামহলের একাংশ মনে করছেন, এই ২টি সিদ্ধান্ত একে অপরের পরিপূরক। বেসরকারি স্কুলের “মনোপলি” ভাঙা এবং স্কুলের গণতন্ত্র ফেরানো।
আপাতত নজর আগামী বিধানসভা অধিবেশনের দিকে। সেখানেই পাশ হবে নতুন শিক্ষাবিল।