মাঝ আকাশে জানলা খুলে আতঙ্ক, থেসালোনিকিতে জরুরি অবতরণ করল রায়ানএয়ারের বিমান
থেসালোনিকি, গ্রিস: উড়ান শুর কিছুক্ষণের মধ্যেই মাঝ আকাশে ঘটে গেল রোমহর্ষক ঘটনা। গ্রিসের থেসালোনিকি থেকে জার্মানির মেমিংগেনগামী *রায়ানএয়ারের* একটি বিমানের পাশের জানলা হঠাৎ খুলে যায়। প্রবল বায়ুচাপের টানে এক যাত্রী প্রায় বাইরে ছিটকে যাচ্ছিলেন। সহযাত্রীদের তৎপরতায় প্রাণে বাঁচেন তিনি। ঘটনার জেরে বিমানটিকে ঘুরিয়ে ফের থেসালোনিকি বিমানবন্দরে ফিরিয়ে আনা হয়।
*মাঝ আকাশে কী ঘটল*
ঘটনাটি ঘটে উত্তর মেসিডোনিয়ার আকাশসীমার উপর দিয়ে যাওয়ার সময়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেশিরভাগ যাত্রী তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ *বিকট বিস্ফোরণের মতো শব্দ* হয়। অনেকে প্রথমে ভাবেন বিমানের টায়ার ফেটেছে বা জরুরি দরজা খুলে গেছে।
তার পরপরই *কেবিনের বায়ুচাপ দ্রুত কমে* যেতে থাকে। অটোমেটিক ভাবে নেমে আসে অক্সিজেন মাস্ক। কেবিন জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই দেখা যায়, এক যাত্রীর *মাথা ও কাঁধ বিমানের জানলার বাইরে ঝুলছে*। প্রবল বাতাসে তাকে বাইরে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। সৌভাগ্যবশত তার সিটবেল্ট বাঁধা ছিল। পাশের যাত্রীরা তৎক্ষণাৎ তাকে জাপটে ধরে ভিতরে টেনে আনেন। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেল।
*আহত যাত্রীর খবর*
আহত যাত্রী *সার্বিয়ার নাগরিক*। ঘর্ষণের কারণে তার শরীরে আঘাত লেগেছে। বিমান অবতরণের পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি এখন *স্থিতিশীল* আছেন এবং বিপদমুক্ত।
*বিমানের ব্যবস্থা ও তদন্ত*
পরিস্থিতি বিবেচনা করে পাইলট আর ঝুঁকি নেননি। *নিরাপত্তার কারণে বিমানটিকে থেসালোনিকি বিমানবন্দরে ফিরিয়ে আনা হয়*। বিমানটি স্বাভাবিকভাবেই অবতরণ করে। এরপর ক্রু সদস্যরা সব যাত্রীকে টার্মিনালে নিয়ে যান।
যাত্রীদের যাতে অসুবিধা না হয়, তাই পরে *বিকল্প একটি বিমানের ব্যবস্থা* করে রায়ানএয়ার।
*রায়ানএয়ারের বিবৃতি*: সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, “উড়ান শুর কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি জানলা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যাত্রীদের নিরাপত্তাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। তাই বিমানটিকে ফিরিয়ে আনা হয়।”
*কীভাবে খুলল জানলা?*
গ্রিসের সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক দাবি, বিমানের *একটি ইঞ্জিন থেকে ধাতব কোনও অংশ ছিটকে এসে জানলায় আঘাত করে*। তাতেই জানলাটি খুলে যায়। তবে এই বিষয়ে এখনও বিমান সংস্থা বা কর্তৃপক্ষের তরফে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ আসেনি।
পুরো ঘটনার *তদন্ত শুরু* হয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনও কারণ, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মাঝ আকাশে এই ধরণের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। সিটবেল্ট বাঁধা থাকা এবং সহযাত্রীদের দ্রুত সিদ্ধান্তের কারণেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। আহত যাত্রীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।