নিজস্ব প্রতিনিধি,নদিয়া, ৮জুলাই ২০২৬: গোপনে চলছিল মাদকের রমরমা কারবার। দিনের বেলা ‘নিরীহ’ টোটোচালক, রাত হলেই রাসায়নিক দিয়ে হেরোইন তৈরি। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানার পুলিশের অভিযানে ফাঁস হল আন্তঃরাজ্য মাদক পাচার চক্রের একটি বড় অংশ। গ্রেফতার হল ২ কারবারি। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হল নগদ ৩২ লক্ষাধিক টাকা, ৫৪ গ্রাম হেরোইন এবং বিপুল পরিমাণ ‘রহস্যময়’ রাসায়নিক।
পুলিশ সূত্রে খবর, কালীগঞ্জ থানার অন্তর্গত মীরাবাজার আরওপি-র পুলিশ কর্মীরা গোপন খবরের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে গ্রেফতার করা হয় সাদ্দাম হোসেন শেখ ও আক্তার শেখ নামে দুই মাদক কারবারিকে। ধৃতদের হেফাজত থেকে উদ্ধার হয় নগদ ৩২ লক্ষ ১৪ হাজার ২৯০ টাকা এবং ৫৪৪ গ্রাম হেরোইন।
শুধু তৈরি মাদকই নয়, পুলিশ উদ্ধার করেছে মাদক তৈরির কাঁচামালও। তালিকায় রয়েছে:
- চায়না কড: স্থানীয় নামে পরিচিত ১ কেজি ৫৮৪ গ্রাম কালো রঙের গুঁড়ো পদার্থ।
- গোরানি: ২৯৭ গ্রাম সাদা রঙের গুঁড়ো।
- সোডিয়াম কার্বোনেট অ্যানহাইড্রাস: ৪ কেজি ৮৩ গ্রাম।
প্রাথমিক অনুমান, হেরোইনের পরিমাণ বাড়াতে বা তা প্রক্রিয়াকরণ করতেই এই রাসায়নিকগুলি ব্যবহার করা হত।
অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন এলাকায় ‘নিরীহ টোটোচালক’ হিসেবেই পরিচিত ছিল। সাদামাটা বাড়িতে বসবাস করত। প্রতিবেশীদের ঘুণাক্ষরেও টের ছিল না এই লুকানো ব্যবসার কথা। গোয়েন্দারা দীর্ঘদিন ধরেই নজর রাখছিলেন তার উপর। সময় বুঝে হানা দিতেই বেরিয়ে আসে আসল চিত্র। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, “টোটো চালানোর আড়ালেই চলত কয়েক কোটি টাকার কারবার।”
ধৃতদের বিরুদ্ধে এনডিপিএস অ্যাক্টের ২১(সি) ও ২৯ নম্বর ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। এই বিপুল পরিমাণ টাকার উৎস, মাদক ও রাসায়নিক কোথা থেকে আসছিল, কার কাছে যেত— তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, এর পেছনে কোনও বড় আন্তঃরাজ্য বা আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের হাত থাকতে পারে। কালীগঞ্জ এলাকায় এর আগেও মাদক পাচারকারীদের আনাগোনার খবর মিলেছিল।
এত বড় অঙ্কের নগদ টাকা ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মীরাবাজার ও সংলগ্ন এলাকায়। স্থানীয়রা বলছেন, “যাকে রোজ টোটো চালাতে দেখতাম, তার বাড়িতে যে এত টাকা-মাদক থাকতে পারে, ভাবতেই পারিনি।”