কলকাতা, ৪ জুলাই: মিড-ডে মিলে দুর্নীতি রুখতে এবার কড়া পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে মাঠে নামছে স্কুলশিক্ষা দফতর। খাবারের মান থেকে শুরু করে মজুত ভান্ডার — সবকিছু খতিয়ে দেখবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকেরা। উত্তরবঙ্গের একটি জেলায় প্রতিদিন পরিদর্শনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
কী কী খতিয়ে দেখা হবে?—-
দফতর সূত্রে খবর, পরিদর্শনে মূলত ৫টি বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে:
1. *খাবারের মান:* প্রতিদিন পড়ুয়াদের পাতে কী খাবার পড়ছে তা যাচাই।
2. *পড়ুয়ার সংখ্যা:* রোজ কত জন পড়ুয়া মিড-ডে মিল পাচ্ছে তার হিসেব।
3. *মজুত ভান্ডার:* আগামী দিনের জন্য কী পরিমাণ খাবার মজুত রয়েছে।
4. *রান্নাঘরের পরিকাঠামো:* রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা ও পরিকাঠামো যাচাই।
5. *মেনু প্রদর্শন:* নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিনের মেনু স্কুলে প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে কিনা।
দফতরের এক কর্তা বলেন, “পরিদর্শন খুব ভাল ভাবে করতে হবে এবং সংগৃহীত তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। কোনও ভাবেই যেন পড়ুয়াদের নিম্ন মানের খাবার না দেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।”
বরাদ্দ বৃদ্ধি, তবু দুর্নীতির অভিযোগ:—
সম্প্রতি প্রাথমিক স্তরে মিড-ডে মিল খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে রাজ্য সরকার। বিধানসভায় বাজেট পেশ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত তা ঘোষণা করেন। শিক্ষা মহলের দাবি, বরাদ্দ বাড়লেও মিড-ডে মিলে বহু দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সেই কারণেই এবার জেলা স্কুল পরিদর্শকের অফিসকে দিয়ে সব হিসেব খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত।
‘নিরামিষ খেয়েও বাঁচে মানুষ’, মন্তব্য শিক্ষামন্ত্রীর:—
এর আগে মিড-ডে মিল প্রসঙ্গে স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী মন্তব্য করেছিলেন, “শুধু ডিমেই পুষ্টি হয় নাকি? নিরামিষ খেয়েও বাঁচে মানুষ।” তাঁর এই মন্তব্য নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়।
শিক্ষক সংগঠনের প্রতিক্রিয়া:—
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, “মিড-ডে মিল নিয়ে নানা সময়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। শিশুদের খাবার নিয়ে কোনও আপস করা উচিত নয়। পরিদর্শনের পাশাপাশি স্কুলগুলিকেও এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।”
পূর্ব মেদিনীপুরের শ্রীরামপুর হরপ্রসাদ হাইস্কুলের গণিতের শিক্ষক কবি মানস কুমার মাইতি জানান, ” রান্না ঘরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি নিয়ম মেনে খাবারের মানও ভাল করা উচিত। পরিচ্ছন্নতা ও পুষ্টি যেন প্রাধান্য পায়। নিয়মিত সরকারি নজরদারি থাকলে দুর্নীতি অবশ্যই আটকাবে।”