কলকাতা, ৪ জুলাই: ‘সংগ্রামই আমার জীবন, সংগ্রামী লগ্নে আমার জন্ম। যতদিন থাকব, লড়াই করব’ — দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে এভাবেই বার্তা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে নাম না করে দলত্যাগীদের ‘বেইমান’ আখ্যা দিয়ে তীব্র কটাক্ষ করলেন তিনি।
‘ক’দিন আর বাঁচবে! শুনছি কেউ কেউ মৃত্যুও কামনা করছেন’
শনিবার এক সভায় মমতা বলেন, “শুনছি কেউ কেউ আমার মৃত্যুও কামনা করছেন! ফোন করে বলছেন, ‘ক’দিন আর বাঁচবে!’ আরে আমি এখন অনেকদিন বেঁচে আছি। আর আমার পরের প্রজন্ম, তার পরের প্রজন্মও বাঁচবে।”
‘কেউ মাথানত করে, কেউ পতাকা আঁকড়ে ধরে’
দলত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কেউ কেউ মাথানত করতে পারে, কেউ কেউ আবার দলের পতাকাটাকে আঁকড়ে ধরতেও পারে। আমরা যেমন তৈরি করি, আমরা নতুন করে গড়ি। এটা আমাদের অনেক বেশি শক্তি। এই মানসিক শক্তি আমরা পেয়েছি মানুষের কাছ থেকে।”
বিদ্রোহীদের উদ্দেশে মমতার প্রশ্ন, “আপনারা যাঁরা বেইমানি করে, লাগেজ-ব্যাগেজ নিয়ে বিজেপির আশ্রয়ে গিয়েছেন, মানুষের সঙ্গে বেইমানি করবেন না। আপনারা এই সিম্বলে জিতে এসেছেন। আর আজ বিদ্রোহী। কিসের বিদ্রোহী? নির্বাচনের আগে পর্যন্ত বিদ্রোহ ছিল না! ১৫ বছর আপনারাই বিধায়ক, সাংসদ, মন্ত্রী ছিলেন। সবটাই পেয়েছেন। কই আমাকে তো কখনও কিছু বলেননি!”
তিনি আরও যোগ করেন, “এমন ঘটনাও ঘটেছে যে বিজেপি অ্যারেস্ট করবে ভয়ে মধ্যরাতে আমার বাড়ি এসেছে। আমি ১০ দিন আমার এখানে খাইয়েদাইয়ে রেখেছি, যাতে কোর্টে বিচার পায়। আমার কোনও রাগ, ক্ষোভ নেই। তারা ভাল থাকুক, তাদের পরিবার ভাল থাকুক।”
‘দুর্দিনে যাঁরা আছেন, তাঁরাই তৃণমূলের সোনার খনি’–
কর্মীদের উদ্দেশে মমতা বলেন, “আমি ছোট্টবেলা থেকে রাজনীতি করি। বাংলা ছেড়ে কোনও দিন যাইনি। জেনে রাখুন, দুর্দিনে যাঁরা আছেন, তাঁরাই তৃণমূলের সোনার খনি। আমাদেরও একটা পরিবার আছে, স্বার্থপর নয়, স্বার্থত্যাগ করা পরিবার।”
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে একের পর এক নেতা তৃণমূল ছাড়ছেন। এই পরিস্থিতিতে দলনেত্রীর এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।