২৭ বছর পর মুক্তির পথে দারা সিংহ? গ্রাহাম স্টেইনস হত্যাকাণ্ড আজও কাঁদায়
নিজস্ব প্রতিনিধি, ১৬ জুলাই, muthokotha.in :১৯৯৯ সালের ২ জানুয়ারি। ওড়িশার কেওনঝর জেলার মনোহরপুর। তীব্র শীতের রাত। ঘুমন্ত অবস্থায় একটি স্টেশন ওয়াগন গাড়ির ভিতর জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয় অস্ট্রেলীয় খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক গ্রাহাম স্টেইনস এবং তাঁর দুই নাবালক ছেলে ফিলিপ (১০) ও টিমোথি (৬)কে।
সেই বর্বর হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত দারা সিংহ ওরফে রবিন্দর পাল সিং। প্রায় ২৭ বছর জেল কাটানোর পর এবার “ভাল আচরণে”র কারণে স্বাধীনতা দিবসে সে ছাড়া পেতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
গ্রাহাম স্টেইনস কুষ্ঠ রোগীদের নিয়ে কাজ করতেন। ১৫ বছর ধরে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় সেবা করছিলেন তিনি। ঘটনার দিন তিনি ও তাঁর দুই ছেলে একটা চার্চের অনুষ্ঠান সেরে গাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। অভিযোগ, বজরং দল-যুক্ত দারা সিংহের নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতী গাড়িতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। গাড়ির দরজা বাইরে থেকে বন্ধ ছিল।
সেদিন এই ঘটনায় সারা বিশ্ব স্তম্ভিত হয়ে যায়। ছিঃ ছিঃ রব উঠতে থাকে বিশ্বজুড়ে।
২০০৩ সালে CBI-এর বিশেষ আদালত দারা সিংহকে গ্রাহাম ও তাঁর দুই ছেলের খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। তাকে ২টি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মোট ১৩ জনকে সাজা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট ২০০৫ সালে দারা সিংহের দণ্ড বহাল রাখে।
তারপর থেকে সে ওড়িশার কেওনঝর জেলে বন্দি।
সূত্রের খবর, দারা সিংহ জেলে “ভাল আচরণ” করেছে। ওড়িশা সরকারের কারাবন্দিদের সময়ের আগে মুক্তির নীতি অনুযায়ী, স্বাধীনতা দিবস ১৫ অগাস্ট উপলক্ষ্যে কয়েকজন বন্দির নাম বিবেচনা করা হচ্ছে। সেই তালিকাতেই দারা সিংহের নাম উঠে এসেছে।
ওড়িশা সরকারের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, “ফাইল প্রক্রিয়াধীন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকার নেবে।”
গ্রাহাম স্টেইনসের স্ত্রী গ্ল্যাডিস স্টেইনস ক্ষমার বার্তা দিয়েছিলেন বহু আগেই। তিনি বলেছিলেন, “আমরা হত্যাকারীদের ক্ষমা করেছি।” কিন্তু ঘটনার নৃশংসতা আজও মানুষকে নাড়া দেয়।
একজন ধর্মপ্রচারক ও তার দুই শিশু সন্তানকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার মতো ঘটনায় অভিযুক্তের ২৭ বছর পর মুক্তি – এই খবরেই ফের পুরনো ক্ষত দগদগে হয়ে উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠন ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের একাংশ এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে।
ওড়িশা সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে এখন সবাই।
১৫ অগাস্ট কি সত্যিই ‘কুখ্যাত’ দারা সিংহের “স্বাধীনতা দিবস” হবে? উত্তর দেবে সময়।