দুর্যোগের আশঙ্কা – ১২ জুলাই পর্যন্ত দিঘায় সমুদ্রস্নান ও মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা
নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব মেদিনীপুর, ৮ জুলাই ২০২৬: সপ্তাহান্তে দক্ষিণবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস। এর জেরে পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে আগামী *১২ জুলাই, রবিবার পর্যন্ত দিঘায় সমুদ্রস্নানে নিষেধাজ্ঞা* জারি করল প্রশাসন। একইসঙ্গে দিঘায় মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার উপরেও নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বাংলাদেশে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত ও নিম্নচাপ অক্ষরেখার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে মরশুমের অন্যতম শক্তিশালী বৃষ্টি বলয় তৈরি হচ্ছে। এর ফলে:
– কম সময়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি
– দমকা ঝোড়ো হাওয়া
– অতি প্রবল বজ্রপাত
– সমুদ্রে জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা
আগামী ৪ দিনে ১৫০ মিমি-র কাছাকাছি বৃষ্টি হতে পারে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া জেলা প্রভাবিত হতে পারে।
টানা বৃষ্টিতে সমুদ্র উত্তাল। জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় দিঘা, মন্দারমণি-সহ উপকূল জুড়ে মাইকে প্রচার করে স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক ও মৎস্যজীবীদের সতর্ক করা হচ্ছে।
পর্যটক ও মৎস্যজীবীদের জন্য কী নির্দেশ?
১. পর্যটক: যাঁরা সপ্তাহান্তে ছুটি কাটাতে দিঘা যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁরা আপাতত সমুদ্রে নামতে পারবেন না। ১২ জুলাই পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি।
২. মৎস্যজীবী: মাছ ধরার নৌকা সমুদ্রে যেতে পারবে না। মঙ্গলবার পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা ছিল, বুধবার রাতে তা বাড়িয়ে রবিবার পর্যন্ত করা হল।
উদ্বেগ বাড়াচ্ছে শঙ্করপুরের ১৫ মৎস্যজীবী
এরই মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে শঙ্করপুরের ঘটনা। *গত ২ জুলাই থেকে সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে ১৫ জন মৎস্যজীবী নিখোঁজ*। তাঁদের পরিবার চরম দুশ্চিন্তায়।
শঙ্করপুর ফিশারম্যান ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক ও প্রাক্তন বিধায়ক স্বদেশরঞ্জন নায়েক প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন, নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের খোঁজে যাতে আরও দ্রুত ও তৎপরতার সঙ্গে উদ্ধারকাজ চালানো হয়।
পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, অযথা সমুদ্রের ধারে না যেতে। পর্যটকদের হোটেলের বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সমুদ্র উপকূল এলাকায় বাড়তি নজরদারি থাকবে।
প্রকৃতির রোষের মুখে আপাতত ছুটির মেজাজে জল। নিরাপত্তাই এখন সবার আগে। আবহাওয়া দপ্তরের পরবর্তী আপডেট না আসা পর্যন্ত উপকূল এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।