৩ আগস্ট, আলিপুরদুয়ার,muthokotha.in : নেই কোনোও দেওয়াল , নেই প্রবেশমূল্যও , শিল্পী ও দর্শকের মাঝে নেই কোনও দূরত্ব। আছে সবুজ, আছে আকাশ, আর আছে মনের রং। এমনই এক অভিনব উদ্যোগ নিয়ে হাজির হয়েছেন জেলার তরুণী শিল্পী শ্রেয়সী।
গত শনিবার আলিপুরদুয়ারের খোলা রাস্তাতেই হয়ে গেল ‘খোলা আকাশের নিচে আঁকাআঁকি’। পথ চলতে চলতেই কেউ থেমেছেন, হাতে তুলে নিয়েছেন তুলি। ক্যানভাসে রেখে গেছেন মনের কথা। কেউ আবার শুধু দাঁড়িয়ে মুগ্ধ চোখে দেখেছেন সেই সৃষ্টি। পথ দিয়ে সারাদিন তো হাজার হাজার মানুষ যাওয়া আসা করেন, তাঁদের মধ্যে সব ধরনের মানুষ আছেন, কেউ গান গাইতে পারেন, কেউ পারেন কবিতা লিখতে, কেউবা আবৃত্তিতে পটু, কেউ হয়তো ভালো নাচতেও পারেন। তো পথে যেতে যদি কোনোও চিত্র শিল্পী ক্যানভাসে তুলির পরশ দেয় তাতে আপত্তি কারইবা থাকতে পারে!
শনিবারই আলিপুরদুয়ার পার্ক রোডের সবুজ ঘেরা পথে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করছে ‘ওপেন আর্ট গ্যালারি’। শিশু উদ্যান লাগোয়া এই পথেই পথের ধারে অস্থায়ী কাঠামোয় সাজানো থাকবে রং, তুলি আর ক্যানভাস। যে কেউ, যে কোনও বয়সের মানুষ এখানে এসে নিজের মতো করে আঁকতে পারবেন।
এই উদ্যোগের কারিগর বছর ছাব্বিশের শ্রেয়সী। পেশায় আর্টের ছাত্রী। তাঁর বিশ্বাস, মোবাইলের পর্দা নতুন প্রজন্মকে যতটা কাছে টেনেছে, প্রকৃতি আর সৃজনশীলতা থেকে ততটাই দূরে সরিয়ে দিয়েছে। তাই তাঁর প্রয়াস, “এখান থেকেই শুরু হোক শিল্পের সঙ্গে প্রথম আলাপ।”
শ্রেয়সী জানান, “পথচলতি শিশু, যুবক, কিশোরী, চাকরিজীবী, প্রবীণ – যে কেউ ইচ্ছে হলেই আঁকতে পারবেন। কেউ চাইলে নিজের আঁকা ছবি সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন, আবার কেউ রেখে যাবেন অন্যের দেখার জন্য।” তাঁর কাছে আসল লক্ষ্য ছবি আঁকা শেখানো নয়, ছবি দেখতে শেখানো। খেলতে এসে বা হাঁটতে বেরিয়ে কোনও শিশু যদি হঠাৎ রং-তুলির সামনে দাঁড়িয়ে যায়, কৌতূহল থেকেই হয়তো জন্ম নেবে শিল্পের প্রতি ভালোবাসা – এটাই তাঁর চাওয়া।
এই ওপেন গ্যালারির দরজা শুধু শিশুদের জন্য নয়। যাঁরা জীবনের ব্যস্ততায় কোনও দিন রং-তুলি হাতে নেওয়ার সুযোগ পাননি, তাঁদের জন্যও খোলা থাকবে এই আঙিনা। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা, বছরের ৩৬৫ দিনই খোলা থাকবে এই গ্যালারি।
শ্রেয়সী এর আগেও পড়ে থাকা শুকনো ফুলপাতা, গাছের ডাল দিয়ে নানা শিল্পকর্মের কর্মশালা করেছেন। অবহেলায় পড়ে থাকা জিনিস দিয়েও যে নতুন সৃজন করা যায়, তা তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন।
উত্তরবঙ্গে শিলিগুড়ির পরে এই প্রথম দ্বিতীয় কোনও জায়গা হিসেবে আলিপুরদুয়ারে খুলতে চলেছে ‘ওপেন আর্ট গ্যালারি’। কেন পার্ক রোড? শ্রেয়সীর সহজ উত্তর, “ওই পথটি সবুজে ঘেরা, নিরিবিলি। পাশেই শিশুউদ্যান। আমার লক্ষ্য নতুন প্রজন্ম। মোবাইলের বাইরেও যে একটা জগৎ আছে, সৃজনের সুযোগ আছে – সেই দরজাটাই খুলে দিতে চাই।”
পথের মাঝে আর্ট, মনের মাঝে শান্তি। আলিপুরদুয়ারের এই নতুন সংযোজন নিঃসন্দেহে জেলার সাংস্কৃতিক মানচিত্রে যোগ করল এক নতুন লাবণ্য।
আপনি কবে যাচ্ছেন তুলি হাতে নিতে? কবে আপনার আঁকা ছবি প্রকাশ্যে আপনার ভাবনাকে তুলে ধরবে?