ভাইয়ের হাতে ভাই খুন: ভগবানপুরের ভীমেশ্বরী বাজারে থমকে গেল মানবতা
নিজস্ব সংবাদদাতা, ১৬ জুলাই, ভগবানপুর, পূর্ব মেদিনীপুর: টাকা-পয়সার হিসাব মেটেনি। কথা কাটাকাটি। তারপর হাতাহাতি। আত্মরক্ষার সুযোগ মেলেনি বড়ো ভাইয়ের। প্রথমে গলা টিপে, তারপর ইঁট দিয়ে মাথায় আঘাতের পর আঘাত,আর তার শেষ পরিণতি – বড় ভাইয়ের নিথর দেহ রাস্তায়, আর ছোট ভাই পুলিশের হাতকড়ায়।
বুধবার দুপুর ২টো। ভগবানপুর থানার ভীমেশ্বরী বাজার তখন লোকে লোকারণ্য। হঠাৎই চিৎকার। উনল গ্রামের দুই ভাই – ৫৩ বছরের সুধীন দাস আর তাঁর ছোট ভাই কার্তিক দাস – রাস্তার মাঝেই জড়িয়ে পড়লেন মারামারিতে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, বিবাদের কারণ টাকা। কত টাকা, কার কাছে কত পাওনা – সেই হিসাব আর মেলেনি। মিলল শুধু রক্ত।
সবচেয়ে যন্ত্রণার জায়গাটা এখানেই। ঘটনাস্থলের চারপাশে কাতারে কাতারে মানুষ। মোবাইলে ভিডিও হয়েছে, আলোচনা হয়েছে, কিন্তু বাঁচানোর জন্য কেউ হাত বাড়ায়নি।
শেষ মুহূর্তে একজন ছুটে এসেছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি। সুধীন দাসকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রশ্ন উঠছে – দু’চারজন মানুষ যদি সত্যিই ছুটে আসতেন, তাহলে কি ভাইয়ের হাতে ভাইকে প্রাণ দিতে হতো?
খবর পেয়ে ভগবানপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছোট ভাই কার্তিক দাসকে গ্রেফতার করে। আপাতত পুলিশি হেফাজতে সে।
একই মায়ের পেটের দুই ভাই। একসাথে বড় হওয়া। সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়া। আজ একজন কাঠগড়ায়, আরেকজন শ্মশানে।
মানবতার আয়নায় দাঁড়িয়ে আমরা শুধু প্রশ্ন খুঁজে বেড়াবো, উত্তর পাবো না কোথাও। ভীমেশ্বরী বাজারের এই ঘটনা শুধু একটি খুনের খবর নয়। এটা আমাদের সময়ের আয়না।
আমরা কখন এতটা নিষ্ঠুর হয়ে গেলাম? কখন “এটা আমার ব্যাপার না” বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়াটা অভ্যাস হয়ে গেল? ক্যামেরা অন করতে পারি, কিন্তু হাত বাড়াতে পারি না।
একজন মা আজ দুই ছেলেকেই হারালেন। একজনকে চিরতরে, আরেকজনকে আইনের কাছে।
টাকার অঙ্ক হয়তো কয়েক হাজার। কিন্তু তার দাম হলো একটা প্রাণ, একটা সংসার, আর আমাদের সমাজের ভেঙে পড়া মানবিকতা। সুধীন দাস আর ফিরবেন না। কার্তিক দাসেরও জীবন শেষ। ভীমেশ্বরী বাজারের মানুষেরা আজীবন এই দুপুর ২টোর কথা মনে রাখবেন।