পূর্ব মেদিনীপুরে আতঙ্ক! দেওয়াল ধসে পড়ল পাঁশকুড়ার শিশু শিক্ষাকেন্দ্রে, হেলে গোটা ভবন, খোলা আকাশের নিচে ক্লাস
পাঁশকুড়া, পূর্ব মেদিনীপুর: বর্ষার মাঝে বড়সড় বিপদ। ক্লাস চলাকালীনই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল স্কুলের দেওয়াল। গোটা ভবন হেলে গিয়েছে, সর্বত্র ফাটল। এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া ব্লকের প্রতাপপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের কানাসী-কিশোরচক শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে।
কীভাবে ঘটল ঘটনা?
মঙ্গলবার রোজকার মতোই ক্লাস চলছিল। হঠাৎ করেই স্কুলবাড়ির একটি দেওয়াল ভেঙে পড়ে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভবনের গায়ে আগে থেকেই বড় ফাটল ছিল। শুধু তাই নয়, গোটা স্কুলবাড়িটাই একদিকে হেলে গিয়েছে।
দেওয়াল ভাঙার আওয়াজ পেয়েই আতঙ্কে চিৎকার শুরু করে দেয় ছোট ছোট পড়ুয়ারা। তড়িঘড়ি শিক্ষিকারা সবাইকে ক্লাস থেকে বের করে স্কুল চত্বরের বাইরে নিয়ে আসেন। বড় দুর্ঘটনা ঘটতে ঘটতে বেঁচে গিয়েছে।
এখন কোথায় ক্লাস?
দুর্ঘটনার পর থেকেই ভবনটিকে “ঝুঁকিপূর্ণ” ঘোষণা করা হয়েছে। তাই আপাতত কেউই স্কুলের ভিতরে ঢুকতে পারছে না।
প্রথমে কয়েকদিন খোলা আকাশের নিচেই পঠনপাঠন চালানোর চেষ্টা হয়। কিন্তু এখন ঘোর বর্ষা। বৃষ্টির মধ্যে বাইরে ক্লাস করানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও ব্লক প্রশাসন আপাতত পড়াশোনা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রশাসন কী বলছে?
খবর পেয়েই স্কুল পরিদর্শনে যান সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা এবং পাঁশকুড়া ব্লকের জয়েন্ট বিডিও।
তাঁরা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন আর ব্যবহার করা যাবে না। পড়ুয়াদের নিরাপত্তাই সবার আগে। খুব দ্রুত অন্য কোনও নিরাপদ জায়গায় স্কুলের ক্লাস শুরুর ব্যবস্থা করা হবে।”
অভিভাবক-শিক্ষিকাদের আতঙ্ক
এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে পড়ুয়া, শিক্ষিকা এবং অভিভাবকদের মধ্যে। তাঁদের প্রশ্ন, “এতদিন ধরে ভবনের এই অবস্থা ছিল, তবুও কেন মেরামত করা হয়নি?”
বর্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং নতুন জায়গার ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত শিশুদের পড়াশোনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ল।
স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা ও নতুন ভবনের দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।