‘নাচ-গান নয়, শুধুই শ্রদ্ধাজ্ঞাপন’ – গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ২১ জুলাই ‘শহিদ স্মরণ’ করবে ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’, জানালেন ফিরহাদ
নিজস্ব প্রতিনিধি, ১৪ জুলাই, কলকাতা : ২১ জুলাই ধর্মতলায় দুটি আলাদা স্মরণসভা। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ব্রিগেডের মূল সমাবেশ। অন্যদিকে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ফিরহাদ-ঋতব্রতদের “শহিদ তর্পণ”। দুই শিবিরের বাকযুদ্ধ এখন তুঙ্গে।
২১ জুলাই শহিদ দিবসের প্রস্তুতি শুরু। ধর্মতলার গান্ধী মূর্তির পাদদেশে জায়গা পরিদর্শন করলেন ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, জাভেদ খানেরা। এবারও ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’-এর ব্যানারে পালন হবে শহিদ স্মরণ। তবে এবার কোনও জাঁকজমক নয় – বার্তা ফিরহাদ হাকিমের।
ফিরহাদের বার্তা,”এটা উৎসব নয়, এটা তর্পণ”
গান্ধী মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে প্রাক্তন পুরমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, এবারের অনুষ্ঠান হবে সম্পূর্ণ নীরব ও শোকের।
তিনি বলেন, “আমরা শহিদ তর্পণ করছি। সেদিন বিনা কারণে আমাদের উপর গুলি চলেছিল। আমাদের অনেক সহকর্মী প্রাণ হারিয়েছিলেন। যাঁরা শহিদ হয়েছেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই দিন।”
তাঁর কথায়, “এটা কোনও উৎসব নয়। এখানে কোনও নাচ-গান হবে না। শুধু শহিদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করা হবে। যাঁরা শ্রদ্ধা জানাতে চান, তাঁরা আসবেন।”
ফিরহাদ আরও বলেন, “আমরা যখন বিরোধী ছিলাম ব্রিগেডে, শহিদ মিনারে যুব কংগ্রেস থাকাকালীনও করেছি। এখন সরকারে থেকেও করছি। এর মধ্যে নতুন কী আছে?”
এবারই প্রথম ২১ জুলাইয়ের এই কর্মসূচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকছেন না। তাহলে কি তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হবে? এই প্রশ্নের উত্তরে ফিরহাদ বলেন, “আমাকে আজ পর্যন্ত কেউ নেমন্তন্ন করেনি। আমরা শুরু থেকেই নিজেরাই এসে শহিদ দিবস পালন করেছি।”
এদিকে ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’-এর এই কর্মসূচি নিয়ে সরব হয়েছেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি সোশাল মিডিয়ায় লেখেন, যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম-ছবি বাদ দিয়ে ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করছেন, তাঁরা আলাদা দল করে ভোটে জিতে দেখান।
কুণালের আরও অভিযোগ, “মেয়ো রোড যদি একপক্ষকে দেওয়া যায়, তবে ভিক্টোরিয়ার সামনে আমাদের সভা করতে বাধা কেন? এটা বি টিমকে সুবিধা করে দেওয়ার জন্যই।”
রবিবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল ছাড়া বাকি সব অনুষ্ঠান “অবৈধ”।