অলকেশ মাইতি, ১৩ জুলাই : এক বা দুই নয়, ৫১টি বাল্যবিবাহ রুখে দিয়েছেন তিনি। এলাকায় সকলের কাছে তিনি এখন ‘দিদিমণি’ আর ‘দশভূজা’।
দুর্গাপুরের ত্রিশের কোঠার শিল্পী পাল। বাল্যবিবাহের খবর পেলেই রাত-দিন, ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে পুলিশ-প্রশাসন নিয়ে সটান হাজির হয়ে যান বিয়ে বাড়িতে। অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা করান – “আঠারো বছর বয়সের আগে মেয়ের বিয়ে দেব না”।
১০ বছর আগে ক্লাস এইটের ছাত্রী মৌসুমীর বিয়ে আটকে শুরু। অসুস্থ বাবার সংসার চালাতে মেয়েকে বিয়ে দিতে চেয়েছিল পরিবার। কিন্তু মৌসুমী পড়তে চেয়েছিল। সেদিন থেকেই শিল্পীর এই লড়াই।
আজ সেই মৌসুমী এক বেসরকারি হাসপাতালের নার্স। শিল্পীর হাত ধরে বেঁচে যাওয়া অনেকেই এখন উচ্চশিক্ষা, চাকরি করছে। কেউ সংসারও পেতেছে – তবে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে, পড়াশোনা শেষ করে।
কাজ করতে গিয়ে কম হেনস্থা হননি শিল্পী। ৩ বছর আগে জেমুয়ায় বিয়ের দিন পুলিশ নিয়ে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করায় প্রায় গণধোলাইয়ের মুখে পড়তে হয়েছিল। শেষে স্কুলের প্রধানশিক্ষক এসে পরিস্থিতি সামাল দেন।
শিল্পী বলেন, “বাল্য বিবাহ ‘অসুখ’ থেকে সেরে উঠুক বাংলা”
বাল্যবিবাহ রোধ ছাড়াও রেললাইনে পাওয়া ৮ জন অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহর পরিচয় উদ্ধার করে পরিবারের হাতে তুলে দিতেও সাহায্য করেছেন তিনি।