অলকেশ মাইতি, ১২ জুলাই, ২০২৬: মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর সংঘাত কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, তার জ্বলন্ত উদাহরণ নেপালের চিতওয়ান। প্রাণ বাঁচাতে দুটি নদী পেরিয়ে নতুন ঠিকানায় গিয়েও রক্ষা হল না। ১৪ বছর আগে যে বুনো হাতির হামলায় এক ব্যক্তি বাবা-মাকে হারিয়েছিলেন, সেই একই হাতি ফিরে এসে কেড়ে নিল তার পুত্রবধূ ও ৪ বছরের নাতির প্রাণ।
-জায়গাটি চিতওয়ানের জগতপুর এলাকা। সম্প্রতি রাতে একটি বাড়ির দেওয়াল ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়ে একটি দাঁতাল হাতি। তাণ্ডব চালিয়ে বাড়ির বধূ ও ৪ বছরের শিশুকে পিষে মারে।
-মৃত্যুর খবর পেয়ে এলাকা জুড়ে নেমে আসে শোক। কারণ হামলাকারী আর কেউ নয়, চিতওয়ান জাতীয় উদ্যানের কুখ্যাত হাতি ‘ধুরবে’।
-বন দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ধুরবে নেপালের সবচেয়ে বিপজ্জনক বুনো হাতিগুলির একটি।
–এখনও পর্যন্ত অন্তত ২৫ জনের মৃত্যুর জন্য দায়ী
–৫০টির বেশি বাড়িঘর ধ্বংস করেছে ধুরবে।
-এর আগেও ১৬ জনের মৃত্যুর পর নেপাল সেনার ৯৬ জন জওয়ান ও বনকর্মী মিলে বড় অভিযান চালায়। সেই অভিযানে ধুরবে গুরুতর আহত হয় এবং দীর্ঘদিন নিখোঁজ ছিল। বন দফতর তখন তাকে মৃত বলেই ধরে নিয়েছিল। কিন্তু ২০১৬ সালে ফের ফিরে আসে ধুরবে। এরপরও একাধিক হামলা চালায়। এমনকি ২ জন বনরক্ষীকেও আক্রমণ করে।
-যে পরিবারের উপর দিয়ে ঝড় বয়ে গেল, সেই পরিবারের বৃদ্ধ সদস্যের কান্না ভেজা গলা। তিনি বলেন,
> _”আগেও পরিবারের সদস্যদের এই হাতিই মেরেছিল। এর আক্রমণের হাত থেকে বাঁচার জন্য আমরা দুটো নদী পেরিয়ে অন্যত্র পালিয়ে আসি। ভেবেছিলাম এবার নিরাপদে থাকব। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হল না। ফের মৃত্যু হলো, এবার আমার পুত্রবধূ এবং নাতিকেই মেরে ফেলল। আমাদের পালিয়ে যাওয়ার মতো আর কোনও জায়গা নেই!”_
এই ঘটনা ফের সামনে এনে দিল মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাতের সমস্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বনাঞ্চল কমে যাওয়া এবং হাতির চলাচলের নিরাপদ করিডর না থাকাই এর মূল কারণ।
স্থানীয়রা এখন প্রশ্ন তুলছেন, ২৫টি প্রাণ যাওয়ার পরও কেন ধুরবেকে কাবু করা গেল না? প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেবে?
চিতওয়ান জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধুরবেকে ধরতে নতুন করে অভিযানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
ভাগ্যের পরিহাস আর প্রকৃতির প্রতিশোধ একসঙ্গে মিলে একটি পরিবারকে দু’বার শেষ করে দিল। এই ঘটনা শুধু একটি মৃত্যুর খবর নয়, এটি আমাদের বন ও বন্যপ্রাণী নীতি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
খুব সুন্দর হয়েছে।
Thank you