স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী STF-এর হাতে গ্রেফতার হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়লেন তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক ও পরিচিত কীর্তন শিল্পী অদিতি মুন্সি। বাগুইআটি থানার মহিলা পুলিশ আধিকারিকদের একটি দল সরাসরি অদিতির বাড়িতে পৌঁছে যায়। টানা জিজ্ঞাসাবাদ চলে তাঁকে।
১) স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ:– “দেবরাজ চক্রবর্তীর নামে তোলাবাজি, প্রতারণা, হুমকির পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ। স্ত্রী হয়ে আপনি কি কিছুই জানতেন না?”
২) গা ঢাকা দেওয়া:– “পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে দেবরাজ যখন পুরুলিয়া-ঝাড়খণ্ড সীমানায় পালিয়ে ছিলেন, তখন তিনি কোথায় ছিলেন? আপনি কি তাঁকে সাহায্য করেছিলেন?”
৩) আর্থিক লেনদেন:– “স্বামীর দুর্নীতির সাম্রাজ্যের সঙ্গে আপনার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগ আছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
তবে সূত্রের দাবি, বেশিরভাগ প্রশ্নেরই সদুত্তর না দিয়ে এড়িয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। তাহলে কী গ্রেফতার হতে পারেন অদিতি?
এবার তাহলে নজরে কী অদিতি? উঠছে প্রশ্ন।
STF বুধবার রাতেই পুরুলিয়া-ঝাড়খণ্ড সীমানা থেকে রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে জমি দখল, প্রোমোটারদের হুমকি দিয়ে কোটি কোটি টাকা তোলা, চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা সহ একাধিক ধারায় মামলা রয়েছে।
স্বামী গ্রেফতার হতেই তদন্তকারীদের নজর ঘোরে স্ত্রী অদিতির দিকে। পুলিশের সন্দেহ ২টি জায়গায়:
১) ক্ষমতার অপব্যবহার:– অদিতি মুন্সি রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন বিধায়ক। তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব ও পরিচিতিকে কাজে লাগিয়েই কি দেবরাজ দুর্নীতির জাল ছড়িয়েছিলেন?
২) আয়ের সঙ্গে সম্পত্তির গরমিল:– কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের শুনানিতে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার বিস্ফোরক দাবি করেন। তিনি বলেন, “শেষ ৫ বছরে দেবরাজ ও অদিতির মোট আয় ১ কোটি টাকা। অথচ তাঁরা ৬০-৭০ লাখ টাকার গাড়ি কিনছেন! এটা কীভাবে সম্ভব?”
এছাড়াও অদিতি মুন্সির নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপন বা অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়ার অভিযোগও নতুন করে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
গ্রেফতারি এড়াতে কিছুদিন আগেই স্বামী-স্ত্রী দুজনেই কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন। শিশু সন্তান থাকার কারণ দেখিয়ে শুধু অদিতি মুন্সির আগাম জামিন মঞ্জুর করে আদালত। দেবরাজের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। তারপর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।
ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে।
দেবরাজ চক্রবর্তী একসময় রাজারহাট-গোপালপুর পুরসভার দাপুটে কাউন্সিলর ছিলেন। স্ত্রী অদিতি মুন্সি ২০২১ সালে তৃণমূলের টিকিটে রাজারহাট-নিউটাউন কেন্দ্র থেকে বিধায়ক হন। গায়িকা হিসেবেও তাঁর আলাদা পরিচিতি আছে।
দেবরাজ গ্রেফতার হওয়ার পর অদিতি বলেছিলেন, “হিন্দু ধর্ম মেনে বিয়ে করেছি। স্বামী জেলে গেলে আমিও…”। সেই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি নেতা তরুণজ্যোতি তিওয়ারি কটাক্ষ করে বলেন, “তাহলে আগাম জামিন নিলেন কেন?”
সূত্রের খবর, অদিতি মুন্সির বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। তাঁর মোবাইল, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, সম্পত্তির হিসাবও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দেবরাজের দুর্নীতির টাকা কোনোভাবে অদিতির নামে বা তাঁর সংস্থায় বিনিয়োগ হয়েছে কি না, সেটাই এখন তদন্তের মূল ফোকাস। প্রয়োজনে অদিতিকে ফের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।