NEET-JEE পরীক্ষা ব্যবস্থায় ঐতিহাসিক বদল: এবার বোর্ডের নম্বরেও হবে ভর্তি, প্রবেশিকায় ৫০% গুরুত্ব পেতে পারে মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক
কলকাতা: দেশের মেডিক্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা ব্যবস্থায় আসতে চলেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। সূত্রের খবর, NEET এবং JEE Main/Advanced এর মতো সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষায় শুধু Entrance এর নম্বরই শেষ কথা বলবে না। এর সঙ্গে মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক বোর্ড পরীক্ষায় পাওয়া নম্বরেরও ৫০ শতাংশ গুরুত্ব দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে কেন্দ্র।
কী বদল আসছে?
এখনও পর্যন্ত নিয়ম হল, NEET বা JEE তে যে নম্বর পাওয়া যায় তার ভিত্তিতেই মেডিক্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হয়। বোর্ড পরীক্ষায় শুধু একটা ন্যূনতম শতাংশ নম্বর থাকলেই Entrance এ বসা যায়। যেমন JEE Main এ বসতে হলে ক্লাস ১২ এ ৭৫% বা বোর্ডের Top ২০ percentile লাগে। কিন্তু সেই নম্বর ভর্তির মেধাতালিকায় যোগ হয় না।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ফাইনাল মেধাতালিকা তৈরি হবে ৫০:৫০ ফর্মুলায়। অর্থাৎ:
মোট নম্বর = Entrance পরীক্ষায় পাওয়া নম্বরের ৫০%+ বোর্ড পরীক্ষায় পাওয়া নম্বরের ৫০%।
কেন এই সিদ্ধান্তের ভাবনা?
গত কয়েক বছরে NEET-UG ও JEE Main পরীক্ষায় একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস, গ্রেস মার্কস নিয়ে বিভ্রান্তি, পরীক্ষাকেন্দ্রে অনিয়ম — সব মিলিয়ে পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষা মন্ত্রক মনে করছে, একটি মাত্র ৩ ঘণ্টার পরীক্ষার উপর ছাত্রছাত্রীদের পুরো ভবিষ্যৎ নির্ভর করা উচিত নয়।
সূত্র জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মূল ৪টি লক্ষ্য হল:
- স্কুল শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া: এখন বহু ছাত্রছাত্রী ১১-১২ ক্লাসে স্কুলে না গিয়ে শুধু কোচিং করে। বোর্ডের নম্বর যোগ হলে স্কুলের পড়াশোনায় ফিরতে বাধ্য হবে।
- কোচিং নির্ভরতা কমানো: Entrance এর সিলেবাস যেন NCERT/বোর্ড সিলেবাসের সঙ্গে মেলে, সেই সুপারিশও থাকছে।
- একাধিকবার পরীক্ষার চাপ কমানো: একবার খারাপ হলে যাতে পুরো বছর নষ্ট না হয়।
- ধীরে ধীরে CBT তে যাওয়া: কম্পিউটার ভিত্তিক পরীক্ষায় রূপান্তরের রোডম্যাপ তৈরি করা।
৯ সদস্যের কমিটি কী বলছে?
গত বছর শিক্ষা মন্ত্রক একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি তৈরি করেছিল। কাজ ছিল কোচিং নির্ভরতা, পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও ছাত্রদের মানসিক চাপ খতিয়ে দেখা। সেই কমিটিই এই ৫০:৫০ ফর্মুলার সুপারিশ করেছে।
কমিটির বক্তব্য, “কোচিং সেন্টার ও একাধিকবার Attempt এর উপর নির্ভরশীলতা কমাতে বোর্ডের নম্বরকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। এতে স্কুলের পাঠক্রমও Entrance এর অংশ হয়ে যাবে।”
জানা গেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কমিটি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেবে। তারপরই এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।
গ্রামের ছাত্রছাত্রীরা যারা কোচিং পায় না, তারা সুবিধা পেতে পারে একটা বোর্ডে প্রশ্ন সহজ, আরেকটায় কঠিন — এই বৈষম্য দূর করা কঠিন
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
শিক্ষাবিদদের একাংশ বলছেন, এই সিদ্ধান্ত ভালো কিন্তু বাস্তবায়ন কঠিন। কারণ ভারতে ৬০টির বেশি বোর্ড আছে। সব বোর্ডের মূল্যায়ন পদ্ধতি, খাতা দেখা, নম্বর দেওয়ার ধরন আলাদা। CBSE এর ৯৫% আর কোনো রাজ্য বোর্ডের ৯৫% এক নয়। তাই নম্বর Normalization করতে হবে। সেটা কতটা বিজ্ঞানসম্মত হবে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।
আবার অনেকে বলছেন, ২০১৩ সালে JEE তে ৪০% বোর্ড ওয়েটেজ চালু হয়েছিল। কিন্তু নানা বিতর্কের পর ২০১৭ সালে তা তুলে দেওয়া হয়। তাই এবার আরও ভেবেচিন্তে এগোতে হবে।
এখন কী হবে?
এখনও কিছুই চূড়ান্ত নয়। এটা প্রস্তাব কেবলমাত্র পর্যায়ে আছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক কমিটির রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর NTA, NMC, রাজ্য সরকারগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। ২০২৬ বা ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চালু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এটা পরিষ্কার, NEET-JEE এর প্রস্তুতির ধরন এবার পাল্টাতে চলেছে। শুধু MCQ সলভ করলেই হবে না, স্কুলের খাতায় ৯০%+ তোলার লড়াইটাও সমান জরুরি হবে।